
ওলী আওলিয়াদের দরবার: প্রেম, ভক্তি ও আত্মশুদ্ধির অনন্য পাঠশালা, অধম হোসেন
বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে ওলী–আওলিয়াদের দরবার এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। বিশ্বের প্রতিটি ওলী আওলিয়ার দরবারে সারাবছর জুড়ে আছে থাকা ও খাওয়ার সু ব্যবস্থা। এখানে পাগল, ফকির, ভক্ত, আশেকান, জাকেরান, ধনী, গরীব, সহায়, অসহায় জাত পাতের ঊর্ধ্বে সকল শ্রেণীর মানুষের থাকা খাওয়ার অভয় আশ্রম বারো মাস । তবে এই দরবার শুধু খাবার বা আশ্রয়ের জায়গা নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, মানবপ্রেম, আল্লাহর স্মরণ এবং নবীপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার এক জীবন্ত কেন্দ্র। ভাবুক কবির এই লেখায় দরবার শরীফের চিরচেনা রূপ, তার দর্শন এবং সমাজে তার প্রভাব অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় ফুটে উঠেছে।
আওলিয়ার দরবারে শুধু খাওন আর খাওন
পাগল ফকির খায় ঘুমায় সারাটি জীবন ||
আল্লাহ আল্লাহ জিকির করে
দয়াল নবীর দরুদ পড়ে
ভক্তিভরে স্বরণ করে
পাক পাঞ্জাতন ||
প্রথমেই কবিতায় বলা হয়েছে—
“আওলিয়ার দরবারে শুধু খাওন আর খাওন, পাগল ফকির খায় ঘুমায় সারাটি জীবন”।
এই পঙ্ক্তিতে বাহ্যিকভাবে কেউ কেউ দরবারকে অলসতার স্থান ভাবলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ত্যাগের শিক্ষা দেয়। পাগল ফকিরদের জীবনযাপন সাধারণ মানুষের চোখে সহজ মনে হলেও তারা দুনিয়ার লোভ–লালসা ত্যাগ করে আল্লাহর ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখেন। খাওয়া ও ঘুমের মধ্যেও তাদের অন্তর জিকিরে ও ধ্যানে মগ্ন থাকে।
পরবর্তী অংশে আসে দরবারের মূল সাধনা—
“আল্লাহ আল্লাহ জিকির করে, দয়াল নবীর দরুদ পড়ে”।
ওলী–আওলিয়াদের জীবন আল্লাহর জিকির ও রাসূল (সা.)-এর দরুদে পরিপূর্ণ। এই জিকির ও দরুদ শুধু মুখের কথা নয়, বরং হৃদয়ের গভীর ভালোবাসা থেকে উৎসারিত। ভক্তিভরে “পাক পাঞ্জাতন”-এর স্মরণ দরবারের আধ্যাত্মিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে এবং মানুষকে আহলে বাইতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।
শিরিক বিদাত ফতোয়া মারে
পাগল ফকির ভক্তদেরে
ভক্তের ভক্তি আরো বাড়ে
চায় মাওলার দর্শন ||
কবিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সমালোচনা ও বিরোধিতার প্রসঙ্গ—
“শিরিক বিদাত ফতোয়া মারে পাগল ফকির ভক্তদেরে”।
ইতিহাস জুড়েই দেখা যায়, ওলী–আওলিয়াদের দরবার নিয়ে নানা ধরনের ফতোয়া ও কটাক্ষ হয়েছে। কিন্তু এসব সমালোচনা ভক্তদের বিশ্বাস দুর্বল করতে পারেনি। বরং কবিতার ভাষায়, “ভক্তের ভক্তি আরো বাড়ে, চায় মাওলার দর্শন”—বিরোধিতার মাঝেও ভক্তদের আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের আকাঙ্ক্ষা আরও গভীর হয়েছে।
ঘৃনা নই দেখো যাইয়া
আওলিয়ার দরবারে গিয়া
প্রেমে বাজার মিলাইয়া
জয় করছে ভুবন ||
এরপর কবিতায় ভালোবাসা ও মানবিকতার আহ্বান জানানো হয়েছে—
“ঘৃনা নই দেখো যাইয়া আওলিয়ার দরবারে গিয়া”।
ওলী–আওলিয়াদের দরবার ঘৃণার নয়, প্রেমের স্থান। এখানে মানুষ জাতি, ধর্ম বা পরিচয়ের ভেদাভেদ ভুলে যায়। প্রেমের বাজারে সবাই সমান। এই প্রেম ও সৌহার্দ্যের কারণেই দরবার যুগ যুগ ধরে মানুষের হৃদয় জয় করে আসছে—“প্রেমে বাজার মিলাইয়া জয় করছে ভুবন”।
হোসেন সদায় ঘুরে বেড়ায়
ওলী আল্লার মাজার দরগায়
নজরুল বাবার নামের দোহাই
এসো মহাজন ||
শেষাংশে ব্যক্তিগত ভক্তির চিত্র ফুটে ওঠে—
“হোসেন সদায় ঘুরে বেড়ায় ওলী আল্লার মাজার দরগায়”।
এখানে একজন ভক্তের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়, যে ওলী আল্লাহদের মাজারে ঘুরে বেড়ায় আত্মিক শান্তির খোঁজে। “নজরুল বাবার নামের দোহাই” দিয়ে ডেকে নেওয়া হয় সকল মহাজনকে—যেন সবাই এই প্রেম, ভক্তি ও মানবতার পথে শামিল হয়।
উপসংহার
ওলী–আওলিয়াদের দরবার কোনো বিলাসিতা বা কুসংস্কারের কেন্দ্র নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, আল্লাহপ্রেম, নবীপ্রেম ও মানবপ্রেমের এক মহামিলনস্থল। উপরের লেখাটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে বাহ্যিক সমালোচনা বা ভুল বোঝাবুঝির ঊর্ধ্বে উঠে দরবারের আসল শিক্ষা হলো—ভালোবাসা, সহনশীলতা এবং স্রষ্টার দিকে ফিরে যাওয়া। এই কারণেই যুগে যুগে ওলী–আওলিয়াদের দরবার মানুষের আশ্রয়, শান্তি ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
#ওলীআওলিয়া #AwliyaAllah #দরবারশরীফ
#DargahLove #সুফিয়ানা #SufiVibes
#আল্লাহরপ্রেম #LoveOfAllah
#নবীপ্রেম #DuroodSharif #জিকিরে_শান্তি
#ZikrLife #পাকপাঞ্জাতন #AhlulBayt
#ভক্তিরপথ #SpiritualJourney #প্রেমইইবাদত
#LoveAndPeace #বাংলাসুফি #BanglaSufi
#মোহাম্মদ_মহররম_হোসেন_মাহ্দী #হোসেন_গীতি #আমাদের_চানেল #amaderchannel #অধম_হোসেন
Leave a Reply