
বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে কর্তব্য কাজে নিষ্ঠা ও সততা আবশ্যক
অধম হোসেনঃ বিশ্ব আজ নানা সংকট, সংঘাত ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতি, বৈষম্য এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো সমস্যাগুলো বিশ্বশান্তির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক জীবনে কর্তব্য কাজে নিষ্ঠা ও সততার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ নিষ্ঠা ও সততা ছাড়া কোনো সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা বিশ্বব্যবস্থা টেকসই শান্তি অর্জন করতে পারে না।
কর্তব্য কাজে নিষ্ঠা বলতে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করাকে বোঝায়। একজন ব্যক্তি যখন তার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করে, তখন সমাজে শৃঙ্খলা ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। একজন শিক্ষক যদি নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষাদান করেন, একজন চিকিৎসক যদি সততা ও মানবিকতা নিয়ে রোগীর সেবা করেন, একজন প্রশাসক যদি দায়িত্ববোধ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন—তবে সমাজে ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। এভাবে প্রত্যেক মানুষ তার নিজ নিজ ক্ষেত্রে নিষ্ঠার পরিচয় দিলে বৃহত্তর পরিসরে বিশ্ব শান্তির পথ সুগম হয়।
সততা হলো নৈতিকতার মূল ভিত্তি। সততা ছাড়া কোনো উন্নয়নই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। দুর্নীতি, প্রতারণা ও স্বার্থপরতা সমাজে অবিশ্বাস এবং সংঘাত সৃষ্টি করে, যা শেষ পর্যন্ত অশান্তি ও সহিংসতার জন্ম দেয়। অন্যদিকে সততা মানুষে মানুষে বিশ্বাস গড়ে তোলে, সহযোগিতার মনোভাব তৈরি করে এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে। রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পর্যন্ত সর্বত্র সততার চর্চা থাকলে যুদ্ধ ও সংঘাতের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।
বিশ্ব শান্তি কেবল রাষ্ট্রপ্রধান বা আন্তর্জাতিক সংস্থার দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা শান্তি রক্ষায় কাজ করলেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও অসততা থাকলে এসব উদ্যোগ কার্যকর হয় না। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নিষ্ঠা ও সততার গুণাবলি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
পরিশেষে বলা যায়, বিশ্ব শান্তি কোনো একদিনে অর্জিত হয় না; এটি দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মূল শক্তি হলো মানুষের কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা। ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্র থেকে আন্তর্জাতিক পরিসর—সব স্তরে যদি নিষ্ঠা ও সততার চর্চা নিশ্চিত করা যায়, তবে বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। তাই বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে প্রত্যেক মানুষের উচিত নিজের কর্তব্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করা।
অধম হোসেন
০৮/০১/২০২৫ ইং কুরগাঁও, ঢাকা
Leave a Reply