
বৃহত্তর সুন্নী জোট-এর সমাবেশ অনুষ্ঠিত
আমাদের চ্যানেলঃ শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫ বিকেলে লালদিঘি ময়দান, চট্টগ্রামে এই প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় সুন্নী মতাদর্শে বিশ্বাসী তিনটি দলের আয়োজনে মহাসম্মেলন। ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি — এক হয়ে ‘বৃহত্তর সুন্নী জোট’ নামে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছে।
উদ্দেশ্য: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ১৩ দফা দাবি সামনে নিয়ে রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি দেখানো। পাশাপাশি দেশে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও গণভোট নিশ্চিত করার দাবি রাখা হয়েছে।
কর্মসূচি: শুধু চট্টগ্রামে নয়, আগামী দিনগুলোতে নারায়ণগঞ্জ (২২ নভেম্বর), কুমিল্লা (২৯ নভেম্বর), হবিগঞ্জ (৬ ডিসেম্বর) ও ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান (২০ ডিসেম্বর) এ সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
১৩ দফা দাবির মূল বিষয়বস্তু
জোটের ঘোষিত ১৩ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো:
নির্ধারিত সময়ে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন।
নির্বাচনের দিন গণভোটের ব্যবস্থা।
নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান।
দুর্নীতিবাজ ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের নির্বাচন থেকে অযোগ্য ঘোষণার দাবি।
ধর্মীয় স্থানে হামলা, মাজার-খানকা-দরবারসহ ধর্মীয় নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
গণমাধ্যম স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি।
নেতৃস্থানীয় বক্তব্যঃ
জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত দেড় দশকে নির্বাচনের মান ও গ্রহণযোগ্যতায় প্রশ্নবোধ তৈরি হয়েছে — তাই এবার তারা যৌথভাবে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে যাচ্ছে।
একজন বক্তা উল্লেখ করেছেন, “দেশে কোটি কোটি তরুণ আজ কর্মহীন … আমরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করি; কিন্তু গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধলে চুপ থাকব না।”
প্রাসঙ্গিক বিষয়ঃ
সমাবেশে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে এবং প্রস্তুতি কমিটিও উল্লেখ করেছে– “পুরোদমে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে”।
এই যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে সুফী ভাবধারায় বিশ্বাসী তিনটি দল দীর্ঘ-মতভেদ ভেঙে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছে।
১৩ দফা দাবি (মূল বিষয়বস্তু)
বৃহত্তর সুন্নী জোট তাদের সমাবেশে নিম্নলিখিত ধরণের দাবি তুলেছেঃ-
১. জাতীয় নির্বাচনের তারিখ নিশ্চিতভাবে ঘোষণা করা।
২. নির্বাচনের দিন গণভোট করার দাবি।
৩. রাষ্ট্রীয় সংলাপ বা বৈঠকে সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
৪. নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বলা হয়ে রয়েছে অভিযানের দাবি।
৫. দুর্নীতিবাজ ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের নির্বাচন থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা।
৬. “জুলাই হত্যাকাণ্ড”-এর বিচার (সংভবত ২০২৪ সালের) এবং পরবর্তী হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার।
৭. পার্বত্য অঞ্চলে “বিদেশি মদদ-পুষ্ট সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের” বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া।
৮. চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশিদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিল করার দাবি।
৯. আরাকানে মানবিক করিডোর না দেওয়া।
১০. মাজার, খানকা, দরবার শরিফ এবং ধর্মীয় নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
১১. মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা এবং স্বাধীনতার ইতিহাস সংরক্ষণ।
১২. গণমাধ্যম স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
১৩. নির্বাচনকালীন প্রশাসনকে দলনিরপেক্ষ রাখা (অর্থাৎ প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা) নিশ্চিত করা।
দল ও নেতৃবৃন্দঃ
বৃহত্তর সুন্নী জোট গঠিত হয়েছে তিনটি সুন্নী-মতাদর্শভিত্তিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে –
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ
বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)
প্রধান নেতৃবৃন্দঃ
*মাওলানা এম এ মতিন — বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান।
*পীরে তরিকত মাওলানা ছৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী — জোটের শীর্ষ নেতা; বিএসপি-যুক্ত।
*পীরে তরিকত মাওলানা ছৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী — বিএসপি-চেয়ারম্যান।
*মাওলানা জয়নাল আবেদীন জুবাইর — ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব।
*মাওলানা স উ ম আবদুস সামাদ — বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় মহাসচিব।
Leave a Reply