
শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ শান্তির দল বদ্ধপরিকর
—চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ শান্তির দল
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ শান্তি, গণতন্ত্র, সুবিচার ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ শান্তির দল আপসহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ আব্দুল্লাহ সহিদ। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো বিদেশি আগ্রাসন হলে বাংলাদেশ শান্তির দল জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করবে।
গতকাল ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং, সকাল ১০টায় বাংলাদেশ শান্তির দলের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. জলিল উদ্দিন হাওলাদার, ভাইস-চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ শান্তির দল।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শান্তির দলের চেয়ারম্যান ও ‘আগামী দিনের বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক’ অ্যাডভোকেট সৈয়দ আব্দুল্লাহ সহিদ।
গণতন্ত্র ও সুশাসনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরেন চেয়ারম্যান
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সৈয়দ আব্দুল্লাহ সহিদ বলেন,
স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিক্রান্ত হলেও বাংলাদেশ আজও একটি মানসম্মত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনেই সরকারি দল ব্যতীত বিরোধী কোনো দল ক্ষমতায় আসতে পারেনি। ফলে এদেশে সরকার পরিবর্তন হয়েছে ভোটের মাধ্যমে নয়, বরং আন্দোলনের মাধ্যমে।
তিনি আরও বলেন,
“সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকার প্রায় বিনাভোটে গায়ের জোরে ক্ষমতায় এসে স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। গণতন্ত্রহীনতা, সুশাসন ও সুবিচারের অভাবে দেশে সীমাহীন দুর্নীতি হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ একসময় বিশ্বে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১৩টি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের একটি।”
এই পরিস্থিতিকে তিনি দুঃখজনক, লজ্জাজনক ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন।
জনগণের প্রত্যাশা ও আন্দোলনের বাস্তবতা
শান্তির দলের চেয়ারম্যান বলেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কারণে রাজনীতিতে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। অথচ দেশের জনগণের চাওয়া খুবই স্পষ্ট—
গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সুবিচার, সুশাসন, সুনীতি, সুষম বণ্টন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা।
তিনি বলেন, বারবার ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতন হলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য আজও অর্জিত হয়নি। তাই গণতন্ত্র ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছাত্র-জনতাকে বাংলাদেশ শান্তির দলের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধের ঘোষণা
চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ আব্দুল্লাহ সহিদ দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,
“বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর যদি কোনো বিদেশি আগ্রাসন হয়, বাংলাদেশ শান্তির দল জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই আগ্রাসন কঠোরভাবে প্রতিহত করবে এবং আগ্রাসী অপশক্তিকে নিশ্চিতভাবে পরাভূত করবে।”
“ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ”-এর আহ্বান
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শান্তির দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বেলাল নূরী। তিনি বলেন,
বাংলাদেশ শান্তির দল “ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ”-এর মাধ্যমে মিথ্যার অবসান ঘটিয়ে সত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“এই দেশ হযরত শাহজালাল (রঃ), হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রঃ) ও অলিআউলিয়াদের দেশ। সবাই সাবধান হোন, নিজেকে সংযত করুন, তাওবা করে সত্য ও ন্যায়ের পথে ফিরে আসুন। অন্যথায় খোদাতায়ালার গজব নাজিল হলে রক্ষা পাওয়া কঠিন হবে।”
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো বিদেশি শক্তি কুদৃষ্টি দিলে বাংলাদেশ শান্তির দল জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই কালো হাত ভেঙে দেবে এবং ইনশাআল্লাহ তাদের পরাভূত করবে।
অন্যান্য বক্তা ও অতিথিবৃন্দ
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—
ভাইস-চেয়ারম্যান জ্যাকি আলমগীর,
মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. আল মামুন,
যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম রিটু,
সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন মো. রুবেল রানা,
মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাজমুন নাহার,
ধর্ম সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল বাতেন,
সহকারী আইন সম্পাদক মো. কাজী আসলাম,
প্রচার সম্পাদক মো. শামীম ওয়াজেদী প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের সভাপতি আবু লায়েছ মুন্না,
বাংলাদেশ জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসাইন,
জাতীয় সংস্কার জোটের আহ্বায়ক মেজর (অব.) আমিন আহমেদ আফসারী,
এবং নতুন বাংলার চেয়ারম্যান মো. আকবর হোসেন ফাইটন।
Leave a Reply