1. admin@amaderchannel.online : admin :
  2. nnsabiha@gmail.com : Sabiha Akter : Sabiha Akter
  3. glil.ashulia@gmail.com : Bismillah Rafsan : Bismillah Rafsan
শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
গানে, প্রেমে, জজবায় প্রেমময় বাবা নজরুল (পর্ব-৯), মোহাম্মদ মহররম হোসেন মাহ্দী তাঁর নামে কুরবানী হইলে, গীতিকার সূফী মোবারক হোসেন মুরাদ যা বুঝার বুঝেছি, গীতিকার মহিবুর রহমান শাহীন পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ | আশরাফুল আলম তাজ  মহাকালের কাঠগড়ায় ত্রয়োদশ সংসদ, আশরাফুল আলম তাজ বজ্রকণ্ঠের উত্তরাধিকার: মহাকালের শিলালিপিতে এক অবিনাশী দ্রোহ, আশরাফুল আলম তাজ ধমনীতে উন্নয়ন: শেখ হাসিনার দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তার এক অনন্য দলিল, আশরাফুল আলম তাজ বেলায়েতের বাদশা মাওলা আলী আলাইহিস সালাম এর ওফাত, অধম হোসেন তোমার স্থান সবার উপরে, গীতিকার মহিবুর রহমান শাহীন গানে, প্রেমে জজবায় প্রেমময় বাবা নজরুল (পর্ব ৮), মোহাম্মদ মহররম হোসেন মাহ্দী
ব্রেকিং নিউজ:
গানে, প্রেমে, জজবায় প্রেমময় বাবা নজরুল (পর্ব-৯), মোহাম্মদ মহররম হোসেন মাহ্দী তাঁর নামে কুরবানী হইলে, গীতিকার সূফী মোবারক হোসেন মুরাদ যা বুঝার বুঝেছি, গীতিকার মহিবুর রহমান শাহীন পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ | আশরাফুল আলম তাজ  মহাকালের কাঠগড়ায় ত্রয়োদশ সংসদ, আশরাফুল আলম তাজ বজ্রকণ্ঠের উত্তরাধিকার: মহাকালের শিলালিপিতে এক অবিনাশী দ্রোহ, আশরাফুল আলম তাজ ধমনীতে উন্নয়ন: শেখ হাসিনার দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তার এক অনন্য দলিল, আশরাফুল আলম তাজ বেলায়েতের বাদশা মাওলা আলী আলাইহিস সালাম এর ওফাত, অধম হোসেন তোমার স্থান সবার উপরে, গীতিকার মহিবুর রহমান শাহীন গানে, প্রেমে জজবায় প্রেমময় বাবা নজরুল (পর্ব ৮), মোহাম্মদ মহররম হোসেন মাহ্দী
আজ ২০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি , ৩রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গানে, প্রেমে, জজবায় প্রেমময় বাবা নজরুল (পর্ব-৯), মোহাম্মদ মহররম হোসেন মাহ্দী

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৯ Time View

 

গানে, প্রেমে, জজবায় প্রেমময় বাবা নজরুল
পর্ব–৯ | জলদি করে চল আশেক

– মোহাম্মদ মহররম হোসেন মাহ্দী

বাংলা সুফি-সাহিত্য, দরবারি গীতিকবিতা এবং নবীপ্রেম কেন্দ্রিক আধ্যাত্মিক কাব্যধারার ভেতরে এমন কিছু কালাম আছে, যেগুলো কেবল গাওয়া হয় না—অনুভব করা হয়, জিকির করা হয়, আর আত্মার গভীরে ধারণ করা হয়। কুমিল্লা বুড়িচং-এর “নজরুলীয়া দরবার শরীফ”-এর প্রতিষ্ঠাতা যুগশ্রেষ্ঠ সূফী সাধক, আধ্যাত্মিক লেখক ও গবেষক, ছানিয়ে রুমি, খলিফায়ে গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী, আল্লামা পীর নজরুল ইসলাম সাদকপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বাবাজান কেবলার রচিত “জলদি করে চল আশেক” তেমনই এক হৃদয়-কম্পিত, নবীপ্রেমময়, জজবাপূর্ণ কালাম।

এ কালামের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে একটিই আহ্বান—বিলম্ব করো না, দ্রুত এগিয়ে চলো নবীজির নূরের সন্ধানে। এখানে পথিক ‘আশেক’, গন্তব্য ‘নূর নবী’, আর এই যাত্রার প্রাণশক্তি ‘ইশক’। এই কালাম তাই শুধু গান নয়; এটি এক আধ্যাত্মিক ডাক, এক সত্তাগত তাগিদ, এক প্রেমযাত্রার মানচিত্র।

কালামের সারবস্তু : “আশেক”-এর ত্বরিত যাত্রা

কালামের প্রথম পংক্তিতেই কবি যে আহ্বান উত্থাপন করেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—

“জলদি করে চল আশেক / নূর নবীর সন্ধানে”

এখানে “জলদি” শব্দটি কেবল সময়গত তাড়না নয়; এটি আত্মিক জাগরণের জরুরি সংকেত। সুফি পরিভাষায় মানুষ যখন হক-অন্বেষী হয়, তখন তার জন্য দেরি করা মানেই গাফলত, আর গাফলত মানেই হৃদয়ের পর্দা ঘন হয়ে যাওয়া। বাবাজান এখানে বলতে চান—যে হৃদয়ে নবীপ্রেম জাগে, সে হৃদয় আর স্থির থাকতে পারে না। তাকে ছুটতেই হবে, কারণ জীবনের প্রকৃত পরিচয়, কিয়ামতের নিরাপত্তা এবং আখিরাতের সাফল্য—সবকিছুর কেন্দ্রে রয়েছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

প্রথম স্তবকের শেষ চরণ—

“নবী বিনে বান্ধব নাইরে রোজ-হাশরের ময়দানে।”

এই পংক্তি কালামের আকিদাগত ও আবেগগত ভিত্তিকে স্পষ্ট করে। এখানে নবীকে কেবল ঐতিহাসিক মহাপুরুষ হিসেবে দেখা হয়নি; বরং উম্মতের মুক্তি, আশ্রয়, সুপারিশ ও পরিত্রাণের কেন্দ্র হিসেবে দেখা হয়েছে। ‘বান্ধব’ শব্দের ব্যবহার এ কালামকে বিশেষভাবে মানবিক করেছে। নবী এখানে দূরবর্তী কোনো তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নন; তিনি অন্তরঙ্গ, তিনি আশ্রয়দাতা, তিনি হাশরের সঙ্গী।

নবীর মর্যাদা : “হায়াতুল মোরছালিন” ও জীবন্ত রুহানিয়াত

দ্বিতীয় স্তবকে বাবাজান বলেন—

“হায়াতুল মোরছালিন নবী, ছাহেবে কোরআন, নাবিউল আম্বিয়া তিনি, ঈমানদারের জান গো নবী…”

এই স্তবকে রাসূলুল্লাহর পরিচয় বহুমাত্রিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি “হায়াতুল মোরছালিন”—রসূলগণের প্রাণ; তিনি “ছাহেবে কোরআন”—কুরআনের বাহক; তিনি “নাবিউল আম্বিয়া”—নবীকুলের সর্দার; এবং তিনি “ঈমানদারের জান”—মুমিন হৃদয়ের প্রাণস্পন্দন।

এই চিত্রায়ন বাংলা সুফি কবিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ রীতি অনুসরণ করে, যেখানে নবীপ্রেম কেবল শ্রদ্ধা নয়, বরং প্রাণের গভীরতম টান হিসেবে প্রকাশিত হয়। “ঈমানদারের জান” বলা মানে ঈমানের সঙ্গে নবীপ্রেমকে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত করা। অর্থাৎ, ঈমানের উষ্ণতা নবীপ্রেমে, আর নবীপ্রেমের পূর্ণতা আনুগত্যে।

এরপরের পংক্তি—

“স্ব-শরীরে জিন্দা এখন আছেন উম্মতের ধ্যানে।”

এই চরণ সুফি ভাবধারায় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে নবীর হায়াত, রুহানী উপস্থিতি এবং উম্মতের সঙ্গে নবীসত্তার স্থায়ী সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে। এটি নিছক কাব্যিক অতিশয়োক্তি নয়; বরং প্রেমমগ্ন আধ্যাত্মিক উপলব্ধির ভাষা। বাংলার দরবারি ও মাইজভান্ডারী-প্রভাবিত সুফি গীতিকাব্যে নবীকে জীবন্ত রুহানিয়াতের কেন্দ্র হিসেবে দেখা হয়—যিনি উম্মতের স্মরণে, দরূদে, সালামে, প্রেমে ও অনুসরণে সদা জাগ্রত।

উম্মতের জন্য নবীর কান্না : শাফায়াতের আবেগধর্মী রূপ

তৃতীয় স্তবকে রয়েছে কালামের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ও আবেগপূর্ণ অংশগুলোর একটি—

“উম্মতের শাফী নবী, মালেকে কাউছার / উম্মতি উম্মতি বলে কান্দেন বেশুমার…”

এখানে নবীকে “উম্মতের শাফী”—উম্মতের সুপারিশকারী—হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। ইসলামী আখ্যান ও ভক্তিধারায় কিয়ামতের দিন নবীজির উম্মতের জন্য আর্তি, দোয়া ও শাফায়াতের বিষয়টি অত্যন্ত কেন্দ্রীয় একটি বিশ্বাস-চেতনা। বাবাজান সেটিকে অত্যন্ত আবেগঘনভাবে ধরেছেন। “উম্মতি উম্মতি বলে কান্দেন”—এই একটি বাক্যেই মুমিন-হৃদয়ে নবীর অবারিত দয়ার ছবি ফুটে ওঠে।

এখানে “মালেকে কাউছার” বিশেষণটির ব্যবহারও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কাউছার জান্নাতি প্রাচুর্য, রহমত ও নবীপ্রদত্ত আধ্যাত্মিক মর্যাদার প্রতীক। নবী শুধু উম্মতের জন্য কাঁদেন না; তিনি রহমতের উৎস, দয়ার আধার, হাশরের দিনে উম্মতের ভার বহনকারী।

“হাতে নিয়া উম্মতের ভার থাকিবেন মিজানে।”

এখানে “মিজান” বা আমলনামার পাল্লার প্রসঙ্গ এনে বাবা নজরুল শাহ্ রহঃ কিয়ামতের হিসাব-নিকাশের মহামুহূর্তে নবীজির শাফায়াতকে কেন্দ্রীয় করে তুলেছেন। অর্থাৎ, উম্মতের মুক্তির প্রশ্নে নবীপ্রেম কেবল দুনিয়াবি আবেগ নয়; তা আখিরাতের মুক্তিরও অবলম্বন।

দরূদ-সালামের তত্ত্ব : শ্রবণ, সংযোগ ও প্রেমের আচার

চতুর্থ স্তবকটি দরূদ-সালামের আধ্যাত্মিক তাৎপর্যকে তুলে ধরে—

“দূরূদ ছালাম যখন পড়ে নবীর উম্মতগণে / খুশী হইয়া কামলে ওয়ালা আপন কানে শুনে…”

বাংলা সুফি ও মিলাদভিত্তিক ধর্মীয় সংস্কৃতিতে দরূদ-সালাম কেবল একটি আমল নয়; এটি প্রেম নিবেদনের ভাষা। বাবাজান এখানে বলছেন, উম্মতের পাঠানো দরূদ-সালাম নবী নিজ কানে শ্রবণ করেন। এটি নবী-উম্মত সম্পর্ককে গভীরভাবে জীবন্ত ও পারস্পরিক করে তোলে। আধ্যাত্মিক সম্পর্ক এখানে একমুখী নয়; বরং প্রেমের সাড়া রয়েছে, জবাব রয়েছে, খুশি রয়েছে।

“প্রমাণ তাহার ছহি তাফসির রুহুল বয়ানে।”

এই পংক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে বাবাজান তিনার বক্তব্যকে নিছক আবেগনির্ভর রাখেননি; বরং তাফসিরি প্রমাণের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। অর্থাৎ, কালামটি কেবল ভাবজাগানিয়া গীতি নয়, বরং একে একটি দলিল-সচেতন আধ্যাত্মিক বক্তব্য হিসেবেও নির্মাণ করা হয়েছে। এ দিক থেকে বাবাজানের লেখনীতে গবেষকসুলভ মনন ও পীরসুলভ প্রেম—দুই-ই মিলিত হয়েছে।

না-চেনার বেদনা : দুনিয়া ও হাশরের মধ্যে পরিচয়ের সেতু

পঞ্চম স্তবক কালামের উপসংহার হলেও, তা আসলে আত্মসংশোধনের এক প্রবল আঘাত—

“দুনিয়াতে না চিনিলে নবী দু’জাহান / কেমনে চিনিবে নবী হাসরের ময়দান”

এই প্রশ্নটি শুধু অলঙ্কার নয়; এটি আত্মপরীক্ষার আহ্বান। দুনিয়ায় নবীকে চেনা মানে কেবল নাম জানা নয়; তার আদর্শ জানা, প্রেমে ডোবা, সুন্নাহর সৌন্দর্য ধারণ করা, তার প্রতি অন্তরের সম্পর্ক গড়ে তোলা। বাবাজান আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন—যে জীবনে নবীচেতনা অনুপস্থিত, সে জীবন আখিরাতের পরিচয়েও শূন্য হয়ে যেতে পারে।

এই উপলব্ধিরই ফল শেষ চরণে কবির আর্তি—

“তাইতো কাঙ্গাল নজরুল ইসলাম কানতেছে রাত্র দিনে।”

এখানে বাবাজান কেবলা নিজেকে “কাঙ্গাল” বলে পরিচয় দিয়েছেন। সুফি সাহিত্যে ‘কাঙ্গাল’ শব্দটি দারিদ্র্যের নয়, বরং আধ্যাত্মিক ভিক্ষুকত্বের প্রতীক। অর্থাৎ, আমি প্রেমের ভিখারি, নবীপ্রেমের ফকির, রহমতের আশায় থাকা এক কাঙ্গাল। এই আত্মপরিচয় বাবাজান কে বিনম্র করেছে, কালামকে করেছে অশ্রুসিক্ত, আর পাঠক-শ্রোতাকে ডেকে নিয়েছে একই আর্তির ভেতর।

“জলদি করে চল আশেক” : একটি সুফিয়ানা ভাষ্য

এই কালামকে গভীরভাবে পড়লে কয়েকটি মূল আধ্যাত্মিক উপাদান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রথমত, ইশক বা প্রেম এখানে কেন্দ্রীয় শক্তি। “আশেক” শব্দটি বলে দেয়, এ পথ জ্ঞানীর একক পথ নয়; এ পথ প্রেমিকের। এখানে বুদ্ধির দরকার আছে, কিন্তু চালিকাশক্তি হলো মহব্বত।

দ্বিতীয়ত, নবীকেন্দ্রিক আধ্যাত্মিকতা এ কালামের প্রাণ। এই কাব্যে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছার রাস্তা নবীপ্রেমের মধ্য দিয়ে নির্মিত। অর্থাৎ, নবীকে ভালোবাসা, স্মরণ করা, দরূদ পড়া, পরিচয় অর্জন করা—এসবই রুহানিয়াতের অপরিহার্য অংশ।

তৃতীয়ত, আখিরাতচেতনা এ কালামকে শুধু গীতিময় রাখেনি; একে দায়বদ্ধও করেছে। হাশরের ময়দান, মিজান, শাফায়াত—এসব পরিভাষা আখিরাতকে অনুভূত বাস্তবতায় পরিণত করেছে।

চতুর্থত, দরবারি ও মজলিসি উপস্থাপনাভঙ্গি এ কালামের ভাষাকে সহজ করেছে। এটি কোনো দুর্বোধ্য দার্শনিক কবিতা নয়; বরং এমনভাবে রচিত যে সাধারণ ভক্ত, আশেক, মুরিদ, দরবারি গায়ক—সকলেই তা অনুভব করতে পারে।

ভাষা, ছন্দ ও সংগীতধর্মিতা

জলদি করে চল আশেক” কালামটির ভাষা সহজ, সরস, আবেগপূর্ণ এবং সমবেত পাঠের উপযোগী। প্রতিটি স্তবকেই দেখা যায় আহ্বানমূলক ধ্বনি, পুনরুক্তি, সুরভিত আবেগ এবং শ্রোতাবান্ধব প্রবাহ। যেমন—“গো নবী”, “ঐ”, “চল নূর নবীর সন্ধানে”—এসব অংশ গানের সুরে বিশেষ আবেদন তৈরি করে।

এর ভাষাগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

* আরবি-ফারসি-উর্দু উৎসের ধর্মীয় শব্দের স্বাভাবিক ব্যবহার,

* বাংলা লোকভাষার সঙ্গে সুফি পরিভাষার মেলবন্ধন,

* আধ্যাত্মিক বিষয়কে কাব্যিক কোমলতায় উপস্থাপন,

* এবং সমবেত জিকিরধর্মী পুনরাবৃত্তির ব্যবহার।

এ কারণেই কালামটি কেবল পাঠ্য নয়; এটি পরিবেশনযোগ্য, স্মরণযোগ্য এবং আধ্যাত্মিক আসরে প্রভাব বিস্তারকারী।

বাংলা সুফি-সাহিত্যে এর স্থান

বাংলার ইসলামী আধ্যাত্মিক সাহিত্যে আমরা বহু ধারার বিকাশ দেখি—হামদ, নাত, গজল, মারফতি গান, মাইজভান্ডারী কালাম, পীরভক্তিমূলক গীতি, দরবারি সঙ্গীত প্রভৃতি। “জলদি করে চল আশেক” এই ধারাগুলোর মধ্যে বিশেষত নাতিয়া-সুফিয়ানা দরবারি কালাম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে নবীপ্রেম কেবল আনুষ্ঠানিক প্রশস্তি নয়; এটি ভক্তের বেঁচে থাকার কারণ, কান্নার কারণ, দৌড়ের কারণ, মুক্তির কারণ। তাই এ কালামকে এক ধরনের আধ্যাত্মিক মোটিভেশনাল টেক্সটও বলা যায়। এটি মানুষকে বলে—সময় কম, জীবন ক্ষণস্থায়ী, হাশর অনিবার্য; অতএব, নবীপ্রেমে দ্রুত এগিয়ে চল।

আধুনিক প্রাসঙ্গিকতা

আজকের যুগে ধর্মীয় চর্চা অনেক সময় বাহ্যিকতা, তর্ক, বিভাজন ও তথ্য-ভিত্তিক কঠোরতার ভেতর সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। সেখানে “জলদি করে চল আশেক” আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—আধ্যাত্মিকতার প্রাণ হচ্ছে ভালোবাসা, চেনা, স্মরণ, অশ্রু, দরূদ, এবং আত্মসমর্পণ।

এ কালাম আধুনিক মানুষের কাছে তিনটি বার্তা বহন করে—

প্রথমত, ঈমান শুধু পরিচয় নয়; তা হৃদয়ের সম্পর্ক।
দ্বিতীয়ত, নবীপ্রেম ছাড়া ইসলামী আত্মিকতা অপূর্ণ।
তৃতীয়ত, আখিরাতের প্রস্তুতি শুরু হয় দুনিয়াতেই—নবীকে চিনে, ভালোবেসে, অনুসরণ করে।

উপসংহার

জলদি করে চল আশেক” এমন এক কালাম, যা একযোগে ডাক, দোয়া, দরদ, দলিল, দরবারি সুর এবং দার্শনিক ইশারা বহন করে। এর প্রতিটি পংক্তি নবীপ্রেমিক হৃদয়ের জন্য একেকটি মশাল। এতে যেমন আছে হাশরের ভয়, তেমনি আছে শাফায়াতের আশা; যেমন আছে দরূদের মাধুর্য, তেমনি আছে না-চেনার বেদনা; যেমন আছে গবেষকসুলভ ইঙ্গিত, তেমনি আছে ফকিরসুলভ কান্না।

আল্লামা পীর নজরুল ইসলাম সাদকপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বাবাজান কেবলার এই কালাম আমাদের শিখিয়ে দেয়—আধ্যাত্মিক পথে সফল হতে হলে প্রথমে আশেক হতে হবে, তারপর ছুটতে হবে নূর নবীর সন্ধানে। কারণ, দেরি করলে জীবন ফুরিয়ে যায়; কিন্তু প্রেমের পথে দ্রুত এগোলে হৃদয় নবীস্মরণে জেগে ওঠে।

সত্যিই, এ কালাম একটি সুরেলা আহ্বান—
চল, দেরি নয়; নবীর নূরের পথে, প্রেমের পথে, মুক্তির পথে।

পুরো কালামটি নিচে দেওয়া হলো

১। জলদি করে চল আশেক
নূর নবীর সন্ধানে, চল নূর নবীর সন্ধানে
নবী বিনে বান্ধব নাইরে রোজ-হাশরের ময়দানে।

২। হায়াতুল মোরছালিন নবী ছাহেবে কোরআন নাবিউল আম্বিয়া তিনি ঈমানদারের জান গো নবী, ঈমানদারের জান,
স্ব-শরীরে জিন্দা এখন আছেন উম্মতের ধ্যানে। ঐ

৩। উম্মতের শাফী নবী মালেকে কাউছার উম্মতি উম্মতি বলে কান্দেন বেশুমার গো নবী কান্দে বেশুমার হাতে নিয়া উম্মতের ভার থাকিবেন মিজানে । ঐ

৪। দূরূদ ছালাম যখন পড়ে নবীর উম্মতগণে
খুশী হইয়া কামলে ওয়ালা আপন কানে শুনে গো, নবী আপন কানে শুনে
প্রমাণ তাহার ছহি তাফসির রুহুল বয়ানে। ঐ

৫। দুনিয়াতে না চিনিলে নবী দু’জাহান
কেমনে চিনিবে নবী হাসরের ময়দান
তাইতো কাঙ্গাল নজরুল ইসলাম কানতেছে রাত্র দিনে। ঐ

 

#নজরুলীয়া_দরবার #সুফিবাদ #নবীপ্রেম #ইশকে_রাসূল #আশেকের_পথ #আধ্যাত্মিকতা #দরূদ_সালাম #বাংলা_সুফি_সাহিত্য #ইসলামী_সংস্কৃতি #মাইজভান্ডারী #পীর_আওলিয়া #রুহানিয়াত #ইমানের_জান #নূর_নবী #হাশরের_ময়দান #শাফায়াত #দ্বীনি_চেতনা #আল্লাহর_প্রেম #ইসলামী_গান #কালাম #দরবারি_সংগীত #আধ্যাত্মিক_গবেষণা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2024 আমাদের চ্যানেল
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: CloudVai-ক্লাউড ভাই