
ভাইরাল বক্তা, সুরেলা আওয়াজ আর নাটকীয়তায় অন্তর আলোকিত হয় না , নিগাহে অলি
ভায়রাল বক্তার ওয়াজ শুনতে আসা অনেক মানুষ আসেন কণ্ঠের আবেগ, উপস্থাপনার নাটকীয়তা ও সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হওয়া ‘ইমেজ’-এর আকর্ষণে। কিন্তু আবেগে আপ্লুত হওয়া আর আদর্শে দীক্ষিত হওয়া এক জিনিস নয়। কণ্ঠের সুরে মুগ্ধ হওয়া মানেই হৃদয়ের রূপান্তর নয়।
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এটি “ইমোশনাল অ্যারাউজাল” ও “কারিশম্যাটিক অথরিটি”-র প্রভাব। সমাজবিজ্ঞানী Max Weber যাকে বলেছিলেন charismatic authority—যেখানে ব্যক্তিত্ব ও উপস্থাপনা মানুষকে আকর্ষণ করে, কিন্তু তা সবসময় মূল্যবোধগত অঙ্গীকারে রূপ নেয় না।
আবার গণমনস্তত্ত্বের বিশ্লেষণে Gustave Le Bon দেখিয়েছেন, জনতার আবেগ খুব দ্রুত সংক্রমিত হয়; ভিড়ের মধ্যে ব্যক্তির বিচারবোধ সাময়িকভাবে ক্ষীণ হতে পারে। ফলে মুহূর্তের আবেগকে স্থায়ী ভক্তি ভেবে নেওয়া গবেষণালব্ধ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইসলামী ঐতিহ্যেও সতর্কতা আছে—বাহ্যিক আবেগ নয়, বরং ইলম, আমল ও চরিত্রই আসল মাপকাঠি। হযরত মুহাম্মদ (সা.) (সা.)-এর দাওয়াতে মানুষ কেবল কণ্ঠের সুরে নয়, বরং সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা ও নৈতিক সামঞ্জস্যে আকৃষ্ট হয়েছিল।
সুতরাং—
শ্রোতা হওয়া এক কথা, শাগরেদ হওয়া আরেক কথা।
মুগ্ধতা এক অনুভূতি, আনুগত্য এক দায়বদ্ধতা।
ভিড় উপস্থিতি, কিন্তু ভক্তি হলো প্রতিশ্রুতি।
গবেষণাভিত্তিক বাস্তবতা বলছে:
তাৎক্ষণিক আবেগ দীর্ঘমেয়াদি আনুগত্যের নিশ্চয়তা নয়।
সুরের উন্মাদনা মানেই আদর্শের গ্রহণ নয়।
অতএব, আবেগকে সম্মান করা উচিত—কিন্তু তাকে ভক্তির সার্টিফিকেট দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
#গবেষণার_আলোকে
#কারিশম্যাটিক_প্রভাব
#আবেগ_ও_বাস্তবতা
#ভিড়_নয়_চরিত্র
#ইলমও_আমল
Leave a Reply