
নামধারী ইসলামী তৌহিদি উগ্রতায়, নাস্তিকবাদের প্রসার ঘটছে, অধম হোসেন
বর্তমান সমাজে ধর্মীয় পরিচয়ের নামে নানা ধরনের বিভাজন, অসহিষ্ণুতা ও উগ্রতা ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। একদিকে ইসলামকে “তৌহিদের রক্ষক” পরিচয়ে কিছু গোষ্ঠী এমন এক কঠোর ও আক্রমণাত্মক ব্যাখ্যায় উপস্থাপন করছে, যা ইসলামের মূল শিক্ষা থেকে অনেক দূরে। অন্যদিকে এর প্রতিক্রিয়ায় সমাজের একাংশ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, ধর্ম সম্পর্কে বিভ্রান্ত হয়ে নাস্তিকতা বা ধর্মবিমুখতার পথে ঝুঁকছে।
এই বাস্তবতা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে—ধর্মের নামে উগ্রতা কি আদৌ ইসলামকে শক্তিশালী করছে, নাকি সমাজে বিশ্বাসের সংকট তৈরি করছে?
উগ্রতার মুখোশে ইসলামের বিকৃতি
ইসলাম মূলত শান্তি, মানবতা ও সহনশীলতার ধর্ম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে ইসলামকে কঠোরতা ও ঘৃণার প্রতীকে পরিণত করছে। তারা নিজেদের “তৌহিদি” বলে দাবি করলেও বাস্তবে তাদের আচরণে দেখা যায়—
* ভিন্ন মতের প্রতি অসহিষ্ণুতা
* প্রশ্ন করাকে কুফরি হিসেবে চিহ্নিত করা
* ধর্মকে ভয় ও শাস্তির ভাষায় উপস্থাপন করা
* সমাজে বিভাজন ও সংঘাত উসকে দেওয়া
ফলে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণ সমাজ ধর্মের সৌন্দর্য নয়, বরং ধর্মের নামে সংঘাতের চিত্রই বেশি দেখতে পাচ্ছে।
তরুণদের প্রশ্ন ও অবহেলার সংস্কৃতি
আজকের যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। তরুণরা শুধু বিশ্বাস নয়, বুঝতে চায়। তারা প্রশ্ন করে—
* ধর্মের দর্শন কী?
* সৃষ্টির উদ্দেশ্য কী?
* মানবিকতা ও ধর্মের সম্পর্ক কোথায়?
কিন্তু যখন তারা এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজে, অনেক সময় তাদের সামনে দাঁড়ায় কিছু উগ্র চিন্তাধারা, যারা যুক্তির বদলে দেয়—
* অপমান
* হুমকি
* সামাজিক বর্জন
* ধর্মীয় গালাগালি
এর ফলে তরুণদের মধ্যে ধর্মের প্রতি এক ধরনের হতাশা জন্ম নেয়। তারা ভাবতে শুরু করে, “ধর্ম যদি এত কঠোর ও অমানবিক হয়, তবে ধর্ম ছাড়াই ভালো।”
এভাবেই উগ্রতা পরোক্ষভাবে নাস্তিকতার প্রসার ঘটায়।
চরমপন্থার প্রতিক্রিয়ায় ধর্মবিমুখতা
সমাজবিজ্ঞানের ভাষায়, একটি চরমপন্থা অন্য চরমপন্থাকে জন্ম দেয়। ধর্মীয় উগ্রতা যখন সমাজে আধিপত্য বিস্তার করে, তখন প্রতিক্রিয়ায় কিছু মানুষ সম্পূর্ণ ধর্মবিমুখ হয়ে পড়ে।
অর্থাৎ নাস্তিকতার প্রসার অনেক সময় যুক্তির বিজয় নয়, বরং ধর্মের নামে আচরণগত ব্যর্থতার ফল।
সূফী সাধনায় ওলী–আওলিয়াগণ: প্রেম ও শান্তির বাতিঘর
এই সংকটের বিপরীতে ইতিহাস আমাদের সামনে এক ভিন্ন ইসলামী ধারার কথা তুলে ধরে—সূফীবাদ।
সূফী সাধনা ইসলামের সেই আধ্যাত্মিক পথ, যেখানে মূল লক্ষ্য আত্মশুদ্ধি, প্রেম, মানবসেবা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা। ওলী–আওলিয়াগণ ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন ভালোবাসার মাধ্যমে।
প্রেমের ভাষায় ইসলাম প্রচার
উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারে ওলী–আওলিয়াদের অবদান অনস্বীকার্য। তারা কখনো তলোয়ার দিয়ে নয়, বরং চরিত্র দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করেছেন।
তাঁদের দাওয়াত ছিল—
* মানবিক আচরণ
* নিঃস্বার্থ সেবা
* ভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান
* ক্ষমাশীলতা ও সহনশীলতা
এ কারণেই হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখসহ নানা ধর্মের মানুষ তাঁদের কাছে আসত শান্তির আশ্রয়ে।
খানকাহ: শান্তির এক প্ল্যাটফর্ম
ওলী–আওলিয়াদের খানকাহ বা দরবার ছিল শুধু ইবাদতের স্থান নয়, ছিল সমাজের শান্তির কেন্দ্র।
সেখানে—
* ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই আশ্রয় পেত
* দরিদ্ররা খাবার পেত
* মানুষ ভালোবাসার শিক্ষা পেত
* বিভাজনের বদলে ঐক্যের চর্চা হতো
তাঁরা সমাজকে এক প্ল্যাটফর্মে এনেছেন—যেখানে মানুষ পরিচয়ের আগে মানুষ হিসেবে মর্যাদা পেত।
ইসলাম ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ওলী–আওলিয়াদের ভূমিকা
ইসলামের মূল শব্দ “সালাম”—অর্থ শান্তি। ওলী–আওলিয়াগণ এই শান্তিকে সমাজে প্রতিষ্ঠা
করেছেন কয়েকভাবে—
১. আত্মশুদ্ধি ও নৈতিকতা
তাঁরা মানুষকে অহংকার, হিংসা ও ঘৃণা থেকে মুক্ত হতে শিখিয়েছেন।
২. আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি
তাঁরা ধর্মীয় সহাবস্থানের বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
৩. মানবসেবা ও সামাজিক ঐক্য
তাঁদের কাছে ধর্ম মানে শুধু আচার নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
৪. সংঘাত নিরসন
সমাজে শান্তি বজায় রাখতে তাঁরা মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করতেন।
উগ্রতার বিপরীতে সূফী আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা
আজকের যুগে যখন ধর্মের নামে উগ্রতা বাড়ছে, তখন ওলী–আওলিয়াদের প্রেম ও সহনশীলতার আদর্শ আরও বেশি প্রয়োজন।
কারণ ইসলাম শক্তির ধর্ম নয়, ইসলাম হৃদয়ের ধর্ম।
উগ্রতা মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়, আর সূফী প্রেম মানুষকে কাছে টেনে আনে।
উপসংহার
ধর্মের নামে উগ্রতা ইসলামের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করছে। এটি শুধু সমাজে বিভাজন বাড়াচ্ছে না, বরং তরুণদের ধর্মবিমুখ করে তুলছে। এর বিপরীতে সূফী সাধনা ও ওলী–আওলিয়াদের আদর্শ আমাদের দেখায়—ইসলাম মানে শান্তি, মানবতা ও ভালোবাসা।
আজ ইসলামের প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে
প্রয়োজন—
* উগ্রতা নয়, সহনশীলতা
* ঘৃণা নয়, প্রেম
* বিভাজন নয়, ঐক্য
* ভয় নয়, মানবিকতা
ওলী–আওলিয়াগণের পথই ইসলামের শান্তির পথ।
#viralpost2026 #আমাদের_চানেল #মোহাম্মদ_মহররম_হোসেন_মাহ্দী #IslamicPeace #SufiPath #ওলীআওলিয়া #PeaceAndLove #SpiritualJourney #BanglaViral #ইসলাম_ও_শান্তি #SufiWisdom #HumanityFirst #ধর্মীয়_সম্প্রীতি #TrueIslam #NoExtremism #LoveForAll #UnityInDiversity #Bangladesh #বাংলা_ফিচার #ViralContent #MahdiWrites #সুন্দর_ইসলাম #IslamicReminder #SpreadPeace #FaithAndHumanity #PositiveMessage #আধ্যাত্মিকতা #IslamicHistory #SufiCulture #বাংলাদেশ_ভাইরাল
Leave a Reply