
ইসলাম মানে আত্মসমর্পণ, মুসলিম মানে আত্মসমর্পণকারী। – নিগাহে অলি
এই দুই শব্দের ইতিহাস ও দর্শন আগে ভালো করে বোঝা জরুরি।
নইলে ধর্ম শুধু আবেগের খোরাক হয়, আত্মশুদ্ধির পথ হয় না।
আধ্যাত্মিক জগতে কিংবা পীর–মুর্শিদের হাতে বায়াত মানে হলো—
পুনরায়, সচেতনভাবে, পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ।
নিজের নফস, অহংকার, জেদ আর “আমি ঠিক” এই মানসিকতাকে ভেঙে ফেলা।
এই শিক্ষা যদি নিজের ভেতরে না থাকে,
তাহলে লোকমুখে শোনা কথা বা হঠাৎ আবেগে বশীভূত হয়ে
পীর–মুর্শিদের হাতে বায়াতের নাটক থেকে বিরত থাকাই ফরজ।
এখানে প্রশ্নটা বায়াত নয়,
প্রশ্নটা আত্মসমর্পণ।
যদি কেউ আত্মসমর্পণ না করে বায়াতের নাটকে বিশ্বাসী হয়,
তাহলে তার আচরণের দায় গিয়ে পড়ে পীর ও পুরো দরবারের ওপর—
এতে কোনো অন্যায় নেই, কোনো অবিচারও নেই।
আজকের সময়ে ধর্ম নিয়ে নিত্যনতুন ভার্সন বানিয়ে
যারা ফিতনা ছড়াচ্ছে—
তারা হয়তো আসল পীরের হাতে বায়াত গ্রহণ করেনি,
অথবা ঠিক জায়গায় বায়াত হলেও
নিজের ভেতরে আত্মসমর্পণ করেনি।
এই কারণেই দেখা যায়—
নিজ পীরের বিরুদ্ধেও ফতোয়াবাজি করে তারা আনন্দ পায়।
কারণ আত্মসমর্পণ না থাকলে,
আনুগত্য থাকে না—থাকে শুধু দাবি।
বৌদ্ধ ধর্মে একটি গভীর প্রবাদ আছে।
গৌতম বুদ্ধ বলেছেন—
“আসো, বসো, দেখো, শোনো, বোঝো—তারপর মেনে নাও।”
এই কথাটি আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।
যেকোনো কাজ, যেকোনো পথ—
অবশ্যই বুঝে, শুনে, উপলব্ধি করে গ্রহণ করা উচিত।
নইলে আজ যেটাকে ইবাদত মনে হয়,
কাল সেটাই নিজের কাছে বিরক্তিকর,
এমনকি বিষাক্তও হয়ে উঠতে পারে।
ধর্ম আবেগ নয়,
ধর্ম হলো উপলব্ধি।
আর আত্মসমর্পণ ছাড়া উপলব্ধি অসম্পূর্ণ।
➖➖➖ নিগাহে- অলি 💐
#আত্মসমর্পণ
#ইসলাম
#বায়াত
#পীর_মুর্শিদ
#আধ্যাত্মিকতা
#ধর্ম_ও_বিবেক
#ফিতনা
#নফসের_জিহাদ
#উপলব্ধি
#সচেতন_ইমান
Leave a Reply