
আজ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,২১ মাঘ ১৪৩২, বুধবার হযরত মতিয়র রহমান শাহ্ (ক.) ৬২তম পবিত্র ওরশ শরিফ, শেখ বিবি কাউসার
গাউসুল আজম হযরত শাহসুফি মওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) মাইজভাণ্ডারী কেবলা কাবা হযরত মতিয়র রহমান শাহ্ (রহ.) সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তিনি তাঁর একজন শিষ্যকে শাহ্ সাহেব কেবলা কাবার বাড়ির দিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘হালদার তীরে আমার একটা ঘর উঠবে আপনারা সেখানে যাবেন, না হলে ধরা হবেন।’ তখন শাহ্ সাহেব কেবলা কাবার বয়স ছিল তিন থেকে চার বছর।
তিনি সবসময় সু-বুদ্ধির কথা বলতেন। কু-বুদ্ধির চর্চা মানুষকে ধ্বংস করে আবার সু-বুদ্ধির চর্চা মানুষকে কালজয়ী শ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত করে। তিনি বলেছেন, ‘সু-বুদ্ধিতে খোদা, সু-বুদ্ধিতে রাসুল, সু-বুদ্ধিতে কুরআন, সু-বুদ্ধিতে ইসলাম, সু-বুদ্ধিতে ইমান, সু-বুদ্ধিতে মানবতা।’
বর্তমান বিশ্বে বিশ্বশান্তির জন্য সু-বুদ্ধির চর্চা জরুরি। হযরত মতিয়র রহমান শাহের (ক.) দেখনো সু-বুদ্ধির পথ গ্রহণ করে হানাহানি, ঘৃণা, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ দূর করা সম্ভব।
শেরে বাংলা (রহ.) তাঁর ‘দিওয়ানে আজিজ’ কিতাবে লিখেছেন, ‘হযরত মতিয়র রহমান শাহ্ হলেন মঞ্জুবে সালেক আরিফ বান্দাদের আদর্শ, আউলিয়াদের চোখের মণি, কাশফ ও কেরামতের খনি, যুগখ্যাত বুজুর্গ ও তাঁর মাজার শরিফ সৃষ্টিকুলের মিলন কেন্দ্র ও জান্নাতের বাগান।’ হযরত আমিনুল হক ফরহাদাবাদী (রহ.) বলেছেন, ‘পূর্ব ফরহাদাবাদে মতিয়র রহমান শাহ্ (ক.) এমন একজন আউলিয়া যার কোনো তুলনা নেই। সু-বুদ্ধির বাণী নিয়ে আগমনকারী এই আউলিয়ার নির্দেশিত পথকে ধরে রেখেছিলেন তারই সাজ্জাদানশীন ও তাঁর জানাজা শরিফের ইমাম ও তদীয় প্রধান খলিফা হযরত শাহসুফি মওলানা আবুল ফয়েজ শাহ্ (ক.)। উনার কারামত ও জীবন নিয়ে গাউসে ভাণ্ডার, গাউসে রহমানসহ বই প্রকাশিত হয়েছে।
১৯৬৪ সালের ২০ মাঘ ১৩৭০ সন আরবি ১৮ রমজান, সোমবার ধরাধাম ত্যাগ করে মহান আল্লাহর সাথে মহামিলনে গমন করেন। ২১ মাঘ উনার জানাজা শরিফ ও দাফন সম্পন্ন হয়। প্রতি বছর ২১ মাঘ হযরত মতিয়র রহমান শাহের (ক.) বার্ষিক ওরস শরিফ মহাসমারোহে গাউসিয়া ফয়েজিয়া মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত হয়।
এই মহান অলির ফায়েজ ও বরকত আমাদের সবার ওপর বর্ষিত হোক। আমিন।
✒️ শেখ বিবি কাউছার
০৪-০২-২০২৬
স্থান: মতিভাণ্ডার দরবার শরীফ
ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।
Leave a Reply