
❝ সময় কেবল বয়ে যায় না, রেখে যায় ইতিহাসের গভীর ক্ষত আর আগামীর উজ্জ্বল সংকেত। ২০২৬-এর এই নবালোকিত ভোরে দাঁড়িয়ে আমার কিছু নাগরিক ভাবনা— ‘সময়ের মহাপ্রান্তরে: স্মৃতির দহন, সংকটের মেঘ ও আগামীর বাংলাদেশ’ ❞
সময়ের মহাপ্রান্তরে: স্মৃতির দহন, সংকটের মেঘ ও আগামীর বাংলাদেশ
আশরাফুল আলম তাজ
(শব্দে সময়কে প্রশ্নকারী এক নাগরিক কণ্ঠ)
১ জানুয়ারি ২০২৬ | ঢাকা
সময় কোনো নিথর জলধি নয়—সময় এক বহমান স্রোতস্বিনী। সে নীরবে বয়ে চলে, অথচ তার প্রতিটি পলিস্তরে জমা থাকে রক্তক্ষয়ী ইতিহাস, দহনবেলার স্মৃতি এবং অনাগত ভবিষ্যতের এক নিগূঢ় মানচিত্র। মহাকালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেল ২০২৫—পিছনে রেখে গেল অম্লমধুর কিছু অর্জন, বিদীর্ণ কিছু ক্ষত এবং এক বুক ভারী প্রত্যাশা। আজ ২০২৬-এর এই নবালোকিত ভোরে আমরা দাঁড়িয়ে আছি এক সন্ধিক্ষণে—যেখানে সমাপ্তির বিষাদ ও সূচনার স্পর্ধা মিলেমিশে একাকার।
আত্মানুসন্ধানের ২০২৫
২০২৫ ছিল বাংলাদেশের জন্য কেবল একটি বর্ষপঞ্জির বছর নয়; ছিল এক গভীর আত্মানুসন্ধানের কাল। এই সময়টি শুধু রাজপথের উত্তাল স্লোগান কিংবা ক্ষমতার নাটকীয় পালাবদলের সাক্ষী হয়নি—এটি ছিল আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব, গণতন্ত্র ও নৈতিক চেতনার এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা। আমরা দেখেছি ক্ষমতার মদমত্ত অলিন্দ থেকে প্রতাপশালীদের পতন; আবার দীর্ঘ নির্বাসন ও কারাবন্দিত্ব পেরিয়ে নতুন সূর্যোদয়ের প্রতীক্ষা। রাজনীতি এখানে কোনো সংকীর্ণ সংজ্ঞায় আবদ্ধ থাকেনি—তা হয়ে উঠেছিল রাষ্ট্রের নৈতিক মেরুদণ্ড ও সাংবিধানিক আত্মার এক মৌলিক লড়াই।
ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্সের উড়াল
তবু বাংলাদেশ কেবল ধ্বংসস্তূপের গল্প বলে না। এই জনপদ জানে কীভাবে ভস্ম থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠতে হয়। ২০২৫ আমাদের আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে—গণতন্ত্র কোনো অলঙ্কার নয়; এটি জনগণের মৌলিক শ্বাস-প্রশ্বাস। রাষ্ট্র কেবল পাষাণপ্রতিম প্রতিষ্ঠান দিয়ে টিকে থাকে না; রাষ্ট্র টিকে থাকে মানুষের পারস্পরিক আস্থা, সহমর্মিতা ও বিশ্বাসের সুদৃঢ় বুননে।
আগামী এবং আমাদের অঙ্গীকার
নতুন বছরের এই লগ্নে আমাদের চাহিদা কেবল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নয়—আমাদের প্রয়োজন এক ‘নৈতিক মহাজাগরণ’। এমন এক জাগরণ, যেখানে মতের ভিন্নতা হবে বহুত্ববাদী গণতন্ত্রের অলংকার, বিভাজনের খড়্গ নয়। যেখানে ক্ষমতা হবে আর্তের সেবার ব্রত—প্রতিহিংসার হাতিয়ার নয়। আমাদের সমৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে উঠবে আস্থার পুনর্নিমাণে।
“রাষ্ট্র বদলায় ক্ষমতার পালাবদলে; কিন্তু দেশ বদলায় নৈতিকতার পুনর্জাগরণে।”
সময়ের কাছে শেষ প্রশ্ন
আজ সময় আমাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—আমরা কি অতীতের ধুলোবালি ঝেড়ে ফেলে এক স্বচ্ছ ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রস্তুত? উত্তর লেখা হবে আমাদের প্রতিটি কর্মে, প্রতিটি সিদ্ধান্তে। যদি আমরা সত্যের মুখোমুখি হতে কুণ্ঠিত না হই, তবে বাংলাদেশ হয়ে উঠবে সভ্যতার এক ধ্রুবতারা।
২০২৬ হোক ভাঙনের বিপরীতে গড়ার বছর, প্রতিহিংসার বিপরীতে পুনর্মিলনের বছর, অন্ধকারের বিপরীতে এক অবিনাশী আলোকবর্তিকার বছর। এগিয়ে চলুক প্রিয় বাংলাদেশ—সময়ের সাক্ষী হয়ে, ইতিহাসের জয়ধ্বনি হয়ে।
Leave a Reply