
আমরা মিলাদ উদযাপন ছেড়ে দিয়েছি!
– মাহমুদা খাতুন
আমরা মিলাদ উদযাপন ছেড়ে দিয়েছি। অতপর একে-একে ছাড়লাম শবে বরাত, শবে মেরাজ, আশুরা, ফাতেহা ই ইয়াজদাহুম সাথে তারাবি নামাজও নাকি ৮/ ১২ রাকাত পড়লেও চলবে। সব ছেড়ে আমরা যখন সহিহ সেজে বসলাম তখন চোখ ফিরিয়ে দেখি নিজ আঙ্গিনায় পালন হচ্ছে ভ্যালেন্টাইন্স , ইস্টার ফ্রাইডে, হ্যাপি নিউ ইয়ার, আমরা আজ ঈদের দিন অলস হয়ে ঘুমাই আর পহেলা বৈশাখে সারা দুপুর রোদে পুড়ে ঘুরাঘুরি করি। আফসোস আমাদের দৈন্যতার প্রতি। আফসোস আমাদের উদাসীনতার প্রতি। আমাদের এখন আত্মীয় স্বজনদের বাসাতে যেতে ও ইচ্ছা করে না। কারণ অনেক আত্মীয় স্বজনরা সারাদিন ধরে স্টার জলসা দেখে দেখে মিথ্যা কথা বলা শিখেছে। অনেক ননদ/ ভাবি এখন এক মিনিট ও সময় নেয় না তার ভাইয়ের সংসার ভাঙ্গার! অনেক পুরুষ / নারীরা একাধিক পুরুষ / নারীদের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে! অনেক বাচ্চারা সারাদিন ধরে বাবা মাকে ব্যস্ত থাকতে দেখে নিজেরা মোবাইলের/ কম্পিউটারের প্রতি আসক্ত হয়ে গেছে। আবার অনেক বয়স্ক মহিলা / পুরুষ ছোট্ট ছোট্ট মেয়ে/ ছেলেদের কে ফেসবুকে ফ্রেন্ড লিস্টে যুক্ত করে,এই ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাদের বলছে ” আমরা কি বন্ধু হতে পারি”। আমরা আসলে এখন কোন সমাজে বাস করতেছি! শুধু আমার ছেলে মেয়ে ভালো হয়ছে বলে আমরা চুপচাপ থাকি! কেনও!!! এদেশের প্রতিটা বাচ্চা আমাদের সম্পদ। তাদেরকে ভালো পথে আনা আমার / আপনার সবার দায়িত্ব!! ইদানীং দেখা যাচ্ছে ছোট্ট ছোট্ট মেয়েরা বয়স্ক লোকদের ফাঁদে আঁটকে পড়তেছে!! আমরা যদি এখনও সঠিক ভাবে নিজেদের মেরুদণ্ড সোজা করে না বসি! তা-হলে কয়েক দিন পড়ে আমাদের এই বাংলাদেশ মুখ থুবড়ে পড়বে!! কেউ কারো কথা শোনে না! ঢাকাতে ঘন্টার পর ঘন্টা আমরা জ্যামে সময় নষ্ট করে চলছি! আসলে আমরা তাহলে কোন দিকে যাচ্ছি!!
আল্লাহ আমাদের মধ্যে আবার ইসলামের সোনালী অতীত ফিরে আনুক। পরবর্তী প্রজন্ম যেনো উৎসব আর সংস্কৃতির দৈন্যতার ফলে ঈমানহারা না হয়ে যায়। দ্বীনে ইসলামের মধ্যে যেনো বেদ্বীনের সংস্কৃতি প্রবেশ না করে।
আমাদের এখনও সময় আছে, আমাদের সমাজটাকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হাত থেকে রক্ষা করার।
মাহমুদা খাতুন।
২৬/২/২৬
Leave a Reply