
আল্লাহ প্রদত্ত্ব ইব্রাহিমি দ্বীন থেকে উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য কি কি দ্বীনি বিধান চালু আছে ?
– আল্লামা হানিফ নূরী পীর সাহেব
——————-হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর দ্বীন বা মিল্লাতে ইব্রাহিম হলো একনিষ্ঠ তাওহীদের ধর্ম। ইসলামে উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য এই সুমহান ঐতিহ্যের অনেক বিধান বা সুন্নাত বর্তমানেও চালু আছে এবং এর অনেক কিছু পবিত্র কুরআনেও সমর্থিত।
ইব্রাহিমি দ্বীন থেকে উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য চালু থাকা দ্বীনের প্রধান বিধান বা সুন্নাতসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
কুরবানী (Udhiyah):
হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কর্তৃক স্বীয় পুত্র ইসমাইল (আঃ)-কে কুরবানীর ঐতিহাসিক স্মরণে ঈদুল আযহার দিনগুলোতে পশুকুরবানীর বিধান, যা উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
হজ ও উমরার বিধান:
কাবা শরীফ নির্মাণ, হাজরে আসওয়াদ স্থাপন, সাফা-মারওয়া সাঈ, শয়তানকে পাথর মারা এবং আরাফাতের ময়দানে অবস্থানসহ হজের অধিকাংশ রুকন ও মানাসিক (কার্যক্রম) হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (আঃ)-এর সুন্নাত বা দ্বীনি বিধান থেকে এসেছে।
ফিতরাতের বিধানসমূহ:
খৎনা করা (circumcision), নাভি ও বগলের নিচের লোম পরিষ্কার করা, গোঁফ ছোট করা এবং নখ কাটার বিধান হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর যুগ থেকে চলে আসছে, যা রাসূল (সাঃ) সুন্নাত বা বিধান হিসেবে উম্মতের জন্য রেখেছেন।
তাওহীদ বা একত্ববাদ:
শিরকমুক্ত খাঁটি তাওহীদী বিশ্বাস, যা হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর মূল আদর্শ ছিল।
কাবা শরীফমুখী হয়ে সালাত:
হযরত ইব্রাহিম (আঃ) যে কাবা নির্মাণ করেছিলেন, সেই কাবাকে কিবলা হিসেবে গ্রহণ করা।
মেহমানদারী:
মেহমানের মর্যাদা দেওয়া এবং তাদের আতিথেয়তা করা ইব্রাহিম (আঃ)-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল, যা মুসলিম উম্মাহর একটি বিশেষ গুণ।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নির্দেশ দিয়েছেন—
“অতঃপর আমি আপনার প্রতি ওহী প্রেরণ করলাম যে, আপনি “দ্বীনে ইবারাহিম” বা
“একনিষ্ঠ ইব্রাহিমের” অনুকরণ করুন।”
(সূরা নাহল: ১২৩)।
———-আধ্যাত্মিক গবেষক ও লেখক শাহসুফি আল্লামা হানিফ নূরী পীরসাহেব,
নূরে হক দরবার শরীফ,
মহাসচিবঃ আশিক্কীনে আউলিয়া ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশ।
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানঃ হযরত লাডুমশাহ (রঃ) আধ্যাত্মিক গবেষনা কেন্দ্র।
সন্মানীত উপদেষ্টাঃ জাতীয় দৈনিক “ঐশি বাংলা” পত্রিকা।
প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষঃ সানফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজ।
Leave a Reply