1. admin@amaderchannel.online : admin :
  2. nnsabiha@gmail.com : Sabiha Akter : Sabiha Akter
  3. glil.ashulia@gmail.com : Bismillah Rafsan : Bismillah Rafsan
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
ড. ইউনূস কি নতুন ‘মীর জাফর’? নাকি রাজনৈতিক অপপ্রচারের শিকার? আশরাফুল আলম তাজ দৌলত শাহ্ আল মধুপুরী, গীতিকার মোবারক হোসেন মুরাদ আশুলিয়া চারিগ্রামে ময়লার লাইন অপসারণ না করায় আটকে আছে স্বপ্নের জলাশয় রক্ষা ও পার্ক নির্মাণ প্রকল্প, নজরুল ইসলাম আশুলিয়ায় এক যুবককে দিন দুপুরে কুপিয়ে হত্যা, সূত্রঃ আজকের আশুলিয়া ইংরেজি শিখি (দুই) পরিকল্পনা ও সম্পাদনাঃ বিসমিল্লাহ রাফসান স্বাধীন শান্তির সুবাতাস পাওয়া যায় আদব, খেদমত, মহব্বত ও মানবতায় পরিপূর্ণ সুফিবাদি মানুষদের মাঝে, অধম হোসেন ধর্ম, মতভেদ ও মানবতার সংকট, শান্তির পথে আমাদের করণীয়, অধম হোসেন বাঙালি বাঙালের মেলা, গীতিকার মহিবুর রহমান শাহীন সুবিধাভোগী জঙ্গী তৎপরতা ও সুফি দরবারে হামলা: সহিংসতার উত্থান, মোহাম্মদ মহররম হোসেন মাহ্দী রক্তিম প্রাসাদের রূপকথা: আহসান মঞ্জিলে এক বিকেলের স্মৃতির অমর নিবেদন, আশরাফুল আলম তাজ
ব্রেকিং নিউজ:
ড. ইউনূস কি নতুন ‘মীর জাফর’? নাকি রাজনৈতিক অপপ্রচারের শিকার? আশরাফুল আলম তাজ দৌলত শাহ্ আল মধুপুরী, গীতিকার মোবারক হোসেন মুরাদ আশুলিয়া চারিগ্রামে ময়লার লাইন অপসারণ না করায় আটকে আছে স্বপ্নের জলাশয় রক্ষা ও পার্ক নির্মাণ প্রকল্প, নজরুল ইসলাম আশুলিয়ায় এক যুবককে দিন দুপুরে কুপিয়ে হত্যা, সূত্রঃ আজকের আশুলিয়া ইংরেজি শিখি (দুই) পরিকল্পনা ও সম্পাদনাঃ বিসমিল্লাহ রাফসান স্বাধীন শান্তির সুবাতাস পাওয়া যায় আদব, খেদমত, মহব্বত ও মানবতায় পরিপূর্ণ সুফিবাদি মানুষদের মাঝে, অধম হোসেন ধর্ম, মতভেদ ও মানবতার সংকট, শান্তির পথে আমাদের করণীয়, অধম হোসেন বাঙালি বাঙালের মেলা, গীতিকার মহিবুর রহমান শাহীন সুবিধাভোগী জঙ্গী তৎপরতা ও সুফি দরবারে হামলা: সহিংসতার উত্থান, মোহাম্মদ মহররম হোসেন মাহ্দী রক্তিম প্রাসাদের রূপকথা: আহসান মঞ্জিলে এক বিকেলের স্মৃতির অমর নিবেদন, আশরাফুল আলম তাজ
আজ ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি , ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ড. ইউনূস কি নতুন ‘মীর জাফর’? নাকি রাজনৈতিক অপপ্রচারের শিকার? আশরাফুল আলম তাজ

  • Update Time : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ Time View

 

ড. ইউনূস কি নতুন ‘মীর জাফর’? নাকি রাজনৈতিক অপপ্রচারের শিকার?

আশরাফুল আলম তাজ
কলামিস্ট ও সমসাময়িক বিশ্লেষক

প্রস্তাবনা: ইতিহাসের মহানায়ক বনাম খলনায়কের দ্বন্দ্ব

সময়ের মহাকাব্যিক আবর্তে কিছু সত্তা কেবল রক্ত-মাংসের মানুষ থাকেন না—তারা হয়ে ওঠেন বিতর্কের এক একটি জীবন্ত উপাখ্যান, পরস্পরবিরোধী মতাদর্শের সন্ধিস্থল এবং রাজনৈতিক কল্পকাহিনীর নিপুণ কারুকার্যে নির্মিত এক রহস্যময় চরিত্র। ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেই বিরল ও মহিমান্বিত ব্যক্তিত্বদের একজন। তিনি একদিকে যেমন নোবেলজয়ীব মানবতাবাদী দর্শনের ঋত্বিক, অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ অরণ্যে এক প্রবল আলোচিত ও বিতর্কিত নাম।

একদিকে তাঁর ‘ক্ষুদ্রঋণ’ ও ‘সামাজিক ব্যবসা’র বিশ্বজনীন দর্শন দরিদ্র মানুষের ললাটলিখন মুছে দেওয়ার এক নতুন ব্রত হিসেবে অভিনন্দিত হয়েছে; অন্যদিকে তাঁর ললাটে লেপে দেওয়া হয়েছে এক জটিল প্রশ্নমালা—যার গহীনে নিহিত রয়েছে রাষ্ট্রক্ষমতা, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং ষড়যন্ত্রের কুয়াশাচ্ছন্ন অভিযোগ। প্রশ্নটি আজ ইতিহাসের কাঠগড়ায় সমাসীন: তিনি কি নেপথ্যে দেশি-বিদেশি শক্তির সঙ্গে কোনো অলিখিত সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন? তিনি কি তবে এই পঁচিশে বৈশাখের জনপদে একবিংশ শতাব্দীর নবতর ‘মীর জাফর’? এই প্রশ্নের মীমাংসা খুঁজতে হলে আমাদের আবেগের উগ্রতা পরিহার করে ইতিহাস, যুক্তি এবং সমসাময়িক অভিযোগগুলোর নির্মোহ ব্যবচ্ছেদ করতে হবে।

মীর জাফর রূপকের ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাষ্যে “মীর জাফর” শব্দটি বিশ্বাসঘাতকতার চূড়ান্ত রূপক। ১৭৫৭ সালের পলাশীতে নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি হয়েও তিনি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে গোপন আঁতাতে লিপ্ত হয়েছিলেন। সেই চুক্তির বিনিময় ছিল নওয়াবগিরি, আর তার পরিণতি ছিল দীর্ঘ দুশো বছরের পরাধীনতা।

ড. ইউনূসের ক্ষেত্রে এই উপমা প্রয়োগকারীদের যুক্তি হলো—তিনিও বিদেশী শক্তির (বিশেষত পশ্চিমা বিশ্বের) সহায়তায় একটি প্রতিষ্ঠিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। তবে এই তুলনার ক্ষেত্রে একটি মৌলিক পার্থক্য লক্ষ্যণীয়। মীর জাফর ছিলেন বিদ্যমান প্রশাসনের অংশ, যিনি যুদ্ধের ময়দানে নিষ্ক্রিয় থেকে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন। ড. ইউনূস দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনের বাইরে ছিলেন এবং তিনি নিজে সেই প্রশাসনের হাতে পদ্ধতিগত নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে তাঁর সমর্থকরা মনে করেন। ফলে প্রশ্নটি দাঁড়ায়—এটি কি হৃত অধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই, নাকি ক্ষমতার সিংহাসনে বসতে বিদেশী প্রভুদের সাথে করা কোনো গোপন রফা?

লন্ডন রহস্য: তারেক রহমান ও ‘গোপন চুক্তি’র অভিযোগ

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে গুরুতর ও আলোচিত অভিযোগটি হলো—আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপট তৈরিতে ড. ইউনূস লন্ডনে গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে একটি গোপন সমঝোতায় উপনীত হয়েছিলেন। এই তত্ত্বের প্রবক্তারা দাবি করেন, সেই চুক্তির মূল শর্ত ছিল—আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাঠামো তৈরি করা, যেখানে ড. ইউনূস হবেন প্রধান এবং পরবর্তীতে বিএনপিকে ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করে দেওয়া হবে।

এই অভিযোগের সপক্ষে তথ্যনিষ্ঠ আলোচনা করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালের আন্দোলনের আগে ড. ইউনূসের একাধিক বিদেশ সফর এবং আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের সাথে তাঁর বৈঠকগুলো সন্দেহাতীত। সমালোচকদের মতে, লন্ডনের সেই কথিত বৈঠকেই ‘মাস্টারপ্ল্যান’ চূড়ান্ত করা হয়। যদি এই চুক্তির অস্তিত্ব সত্য হয়, তবে তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ‘পলাশী’ হিসেবে চিহ্নিত হবে। তবে এই চুক্তির কোনো দালিলিক প্রমাণ বা প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ এখনো জনসমক্ষে আসেনি, যা একে রাজনৈতিক গুঞ্জনের স্তরেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। কিন্তু রাজনীতির অন্দরমহলে এই ধারণাটি প্রতিষ্ঠিত যে, একদফা আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা কোনো না কোনো আন্তর্জাতিক বা আন্তঃব্যক্তিক সমঝোতার মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ: ড. ইউনূসের ‘মাস্টারপ্ল্যান’?

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সবচেয়ে বিতর্কিত ও আলোচিত পদক্ষেপ হলো আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া বা নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া। অভিযোগ রয়েছে, এটি ড. ইউনূসের নিজস্ব ‘ফর্মুলা’। সরকারের প্রধান হিসেবে তিনি ছাত্র-জনতার ক্ষোভকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি ‘কৃত্রিম জনমবিস্ফোরণ’ (Artificial Mob) তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাত্ত্বিকভাবে বিচার করলে দেখা যায়, একটি প্রাচীন ও বৃহত রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত কেবল প্রশাসনিক নয়, বরং তা গভীর রাজনৈতিক দর্শনের অংশ। সমালোচকদের দাবি, ড. ইউনূস সংসদীয় সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে এমন কিছু আইনি মারপ্যাঁচে আওয়ামী লীগকে জড়াচ্ছেন, যাতে অদূর ভবিষ্যতে দলটির পুনরুত্থান অসম্ভব হয়ে পড়ে। এটি কি জুলাই গণহত্যার ন্যায়বিচার, নাকি কোনো গোপন চুক্তির বাধ্যবাধকতা যা অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে একচেটিয়া সুবিধা প্রদানের জন্য করা হয়েছে? এই প্রশ্নটিই আজ জনমনে ড. ইউনূসের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর: ঐতিহ্যের অবমাননা ও ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিলোপ বা সেখানে সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য অনেক বিশ্লেষক ড. ইউনূসকে ‘মূল হোতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মতে, এটি কেবল একটি ভবন নয়, বরং বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রতীক। সেই প্রতীককে ভূলুণ্ঠিত করার মাধ্যমে জাতীয় ইতিহাসে একটি বিশাল শূন্যতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
এই ঘটনার পেছনে ড. ইউনূসের সায় বা নিষ্ক্রিয়তাকে ‘মীর জাফর’ সুলভ আচরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বলে—বাংলাদেশের আত্মপরিচয়ের ভিত্তি দুর্বল করে দেওয়া এবং ‘ডি-লিগ্যাসি’ (De-legacy) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এক নতুন রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করাই ছিল তাঁর গোপন চুক্তির অংশ। সংসদ ভবন বা ৩২ নম্বরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতাকে অনেকে ইচ্ছাকৃত বলে মনে করেন, যা ড. ইউনূসের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়।

রাষ্ট্রপতি পদের গুঞ্জন ও ব্যক্তিগত উচ্চাভিলাষ

গুঞ্জন রয়েছে যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ শেষে ড. ইউনূসকে দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে অলঙ্কৃত করা হবে। রাজনীতির অন্দরমহলে প্রচলিত আছে যে, এই পদটিই ছিল তাঁর সেই কথিত ‘গোপন চুক্তির’ অন্যতম প্রধান শর্ত। যদি নিকট ভবিষ্যতে তিনি এই আলঙ্কারিক বা নির্বাহী ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হন, তবে তাঁর সমালোচকদের জন্য এটি হবে এক বড় বিজয়—যা প্রমাণ করবে যে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা দ্বারা তাড়িত।

মীর জাফরের পুরস্কার ছিল ‘নওয়াব নাজিম’ উপাধি, আর ড. ইউনূসের ক্ষেত্রে তা যদি হয় রাষ্ট্রপতি পদ, তবে ইতিহাসের সমান্তরাল রেখাটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তবে তাঁর অনুসারীদের মতে, একজন নোবেলজয়ীর কাছে রাষ্ট্রপতি পদের চেয়েও বড় সম্পদ হলো তাঁর বৈশ্বিক ভাবমূর্তি, যা তিনি কোনো চুক্তির বিনিময়ে নষ্ট করবেন না।

গ্রামীণ ব্যাংক ও পদ্মা সেতু: সংঘাতের সেই আদি বীজ

ড. ইউনূসের সাথে বিগত শাসনের সংঘাতের মূলে ছিল গ্রামীণ ব্যাংক এবং পদ্মা সেতু। এই দুটি ইস্যুতেই তিনি যেভাবে আন্তর্জাতিক মহলকে সম্পৃক্ত করেছিলেন, তা তৎকালীন সরকারের কাছে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। বিশেষ করে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধের ঘটনায় তাঁর কথিত প্রভাব খাটানোর বিষয়টি তাঁকে ‘জাতীয় শত্রু’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রধান হাতিয়ার হয়েছিল।

তথ্যনিষ্ঠ বিশ্লেষণে দেখা যায়, হিলারি ক্লিনটনের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্তের মধ্যে একটি যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও কানাডার আদালতে দুর্নীতির অভিযোগ টেকেনি, তবুও রাজনৈতিকভাবে ইউনূসকে ‘মীর জাফর’ প্রমাণের এটিই ছিল প্রথম সোপান। ৩২ নম্বরের ঘটনার মতো এখানেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তিনি নিজের সম্মানের জন্য দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছেন।

ভূ-রাজনৈতিক দাবার ছক: দেশি-বিদেশি শক্তির মেলবন্ধন

বাংলাদেশ আজ এশীয় রাজনীতির এক কৌশলগত মহাকেন্দ্র। এখানে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের আধিপত্যের যে ত্রিমুখী লড়াই, তার মাঝে ড. ইউনূসের উপস্থিতি কেবল কাকতালীয় হতে পারে না। ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অনুযায়ী, পশ্চিমা শক্তিগুলো ড. ইউনূসকে ব্যবহার করে বাংলাদেশে একটি ‘পুতুল সরকার’ বা তাদের অনুগত শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের পতন কেবল অভ্যন্তরীণ আন্দোলন নয়, বরং এক বিশাল ভূ-রাজনৈতিক নীল নকশার ফসল।

ড. ইউনূস যদি এই নীল নকশার অংশ হয়ে থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে ‘মীর জাফর’ অপবাদটি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। কেননা মীর জাফরের চুক্তি ছিল একটি কোম্পানির সাথে, আর ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগটি হলো বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর সাথে সমঝোতার।

সমাপনী মূল্যায়ন: ব্যক্তিত্বের মহিমা বনাম বিতর্কের ধূম্রজাল

ড. মুহাম্মদ ইউনূস কি কোনো গোপন চুক্তির কারিগর? তিনি কি সত্যিই তারেক রহমানের সাথে হাত মিলিয়ে একটি নীল নকশা বাস্তবায়ন করছেন? তথ্যনিষ্ঠ বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই প্রশ্নগুলোর উত্তরে ‘ধোঁয়াশা’ অধিক। তাঁর আন্তর্জাতিক মহলের সাথে ঘনিষ্ঠতা এবং আওয়ামী লীগ বিরোধিতার অবস্থান প্রশ্নাতীত; কিন্তু সেটিকে ‘মীর জাফর’ মার্কা সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা বলা যাবে, নাকি এটি একটি ধ্বংসোন্মুখ রাজনৈতিক ব্যবস্থার অনিবার্য পতন—তা নির্ধারণের ভার ইতিহাসের।
ড. ইউনূসকে নিয়ে যে বিতর্কের আবর্ত আমাদের সময়ের রাজনৈতিক আকাশকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে, তার মীমাংসা রাজপথে নয়, বরং তথ্যের স্বচ্ছতায় নিহিত। রাজনীতিতে কোনো কিছুই ধ্রুব নয়; তবে তথ্যনিষ্ঠ বিশ্লেষকের কাজ হলো—আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে অভিযোগগুলোকে জনসমক্ষে উপস্থাপন করা।

অধরা প্রমাণের ময়নাতদন্ত’
: ধারণা, গুঞ্জন ও সমালোচকদের যুক্তিজাল

ইতিহাসের অনেক অমোঘ সত্য সমকালীন প্রেক্ষাপটে তথ্যের চেয়ে ‘পারসেপশন’ বা জনধারণার নিগড়েই বেশি বন্দি থাকে। ড. ইউনূসের ক্ষেত্রে যেখানে দালিলিক প্রমাণের অভাব প্রকট, সেখানে সমালোচকদের দাবিগুলো মূলত তাঁর দীর্ঘমেয়াদী আন্তর্জাতিক সংযোগ ও সমসাময়িক প্রশাসনিক মেরুকরণের ওপর ভিত্তি করেই ডালপালা মেলেছে। রাজনৈতিক অন্দরমহলে এই ‘ধারণা’ এখন আকাশচুম্বী যে, একটি সুদূরপ্রসারী ভূ-রাজনৈতিক অভীষ্ট হাসিলের লক্ষ্যে তাঁকে কেন্দ্র করেই দাবার ঘুঁটি সাজানো হয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে, তাঁর প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো আসলে এক অলিখিত ক্ষমতার কাঠামোর ছায়া—যা প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যাকরণকে পাশ কাটিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক ‘ডকট্রিন’ প্রতিষ্ঠার নীল নকশা মাত্র। কট্টর সমালোচকদের মতে, প্রমাণের অনুপস্থিতি ষড়যন্ত্রের অনুপস্থিতি নির্দেশ করে না; বরং অনেক সময় ইতিহাসের অন্তরালে থাকা ঘাত-প্রতিঘাতগুলো উন্মোচিত হতে কয়েক দশকের ব্যবধান প্রয়োজন হয়। এই তীক্ষ্ণ ধারণাপ্রসূত বিতর্কগুলোই আজ ড. ইউনূসকে এক ধূসর গোলকধাঁধায় দাঁড় করিয়েছে, যেখানে সত্যের আভা আর প্রচারণার কুয়াশা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

পরিশেষ: ইতিহাস নয়, প্রমাণই শেষ কথা

ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। তিনি কি একজন মহান সংস্কারক হিসেবে আগামী প্রজন্মের কাছে শ্রদ্ধেয় হবেন, নাকি ক্ষমতার অলিগলিতে গোপন চুক্তির এক কুশলী কারিগর হিসেবে ঘৃণিত হবেন—তা নির্ভর করবে তাঁর সরকারের চূড়ান্ত ফলাফল এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের স্বচ্ছতার ওপর। গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে প্রশ্ন করার সাহসিকতায়, কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সততায়। আর সেই সততার ভিত্তিভূমি একটাই—নির্ভীক তথ্যনিষ্ঠা। কালান্তরের আয়নায় সত্য একদিন উদ্ভাসিত হবেই, সেদিন হয়তোবা কোনো চুক্তিই আর ‘গোপন’ থাকবে না। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না—সেটা সিরাজউদ্দৌলা হোক কিংবা আধুনিক বাংলাদেশের কোনো মহানায়ক।

আশরাফুল আলম তাজ
২০ এপ্রিল, ২০২৬
ঢাকা, বাংলাদেশ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2024 আমাদের চ্যানেল
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: CloudVai-ক্লাউড ভাই