
৭০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ঢাকার হাইকোর্ট মাযারে খাজা শরফুদ্দীন চিশতির ওরশ শরীফে বাধা: তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা
আমাদের চ্যানেলঃ ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হাইকোর্ট মাযারে অনুষ্ঠিতব্য হযরত খাজা শরফুদ্দীন চিশতি (রহ.)-এর ওরশ শরীফে বাধা প্রদান করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও আশেকান-এ-আউলিয়াদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো এ ধরনের একটি পবিত্র ও ধর্মীয় আয়োজনের ওপর বাধা আরোপ করা হয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খাজা শরফুদ্দীন চিশতি (রহ.) ছিলেন উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত সুফি সাধক ও ইসলাম প্রচারক। তাঁর মাযারকেন্দ্রিক ওরশ শরীফ প্রতিবছর ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসংখ্য ভক্ত, আশেক ও সাধারণ মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। এই ওরশ শরীফ শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, বরং এটি বাংলার সুফি-সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এ বছর হঠাৎ করে ওরশ শরীফ আয়োজনের ওপর বাধা প্রদান করায় সাধারণ মানুষ বিস্মিত ও মর্মাহত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোনো ধরনের পূর্ব আলোচনা বা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছাড়াই এই বাধা আরোপ করা হয়েছে, যা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও দীর্ঘদিনের প্রচলিত ঐতিহ্যের পরিপন্থী বলে মনে করছেন অনেকে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন, সুফি তরিকা অনুসারী ও সচেতন নাগরিকরা তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন। তাদের বক্তব্য, এ ধরনের গর্হিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তারা আরও বলেন, যারা এই পবিত্র ওরশ শরীফে বাধা দিয়েছে, তাদের বিচার একদিন আল্লাহর পক্ষ থেকেই অবশ্যই হবে—এটি শুধু সময়ের অপেক্ষা।
বিক্ষুব্ধ আশেকানরা জানান, ওরশ শরীফ বন্ধ করা মানে শুধু একটি অনুষ্ঠান বন্ধ করা নয়, বরং শতাব্দীপ্রাচীন আধ্যাত্মিক ধারা ও ইতিহাসকে অবজ্ঞা করা। তারা শান্তিপূর্ণভাবে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে—বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। ধর্মীয় সম্প্রীতি, ঐতিহ্য ও মানুষের বিশ্বাস রক্ষায় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন ধর্মপ্রাণ জনগণ।
সর্বোপরি, খাজা শরফুদ্দীন চিশতি (রহ.)-এর ওরশ শরীফের মতো একটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় আয়োজন নির্বিঘ্নে পালনের সুযোগ নিশ্চিত করাই হবে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার অন্যতম উপায়—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।
Leave a Reply