1. admin@amaderchannel.online : admin :
  2. 2193wenona@powerscrews.com : rakib boss : rakib boss
  3. nnsabiha@gmail.com : SABIHA AKTER : SABIHA AKTER
বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন
আজ ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২০শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি , ১১ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

হযরত ওয়াইসুল করনি (রা.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

  • Update Time : রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৩৩ Time View

 

হযরত ওয়াইসুল করনি (রা.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

– সৈয়দ আমিনুল এহসান ফেরদাউস আল কাদামী 

নামঃ সুলতানুল আশেকীন আশেকে রাসূল (সা.) হযরত খাজা ওয়াইস আল-করনি (র)।

জন্মঃ ইয়েমেনের করন শহর। সমাধিঃ মদিনার দক্ষিণে জোবায়দা শহরে ।

পিতাঃ হযরত আব্দুল্লাহ (রা.) । মাতাঃ-হযরত বেদউরা (রা.)।

পদবিঃ সুলতানুল

আশেকিনে রাব্বানি ,আল্লাহ্ ও তার

রাসুলের নয়ন মনি। আধ্যাত্মিক

সাধনাঃ- ওয়াস করনি (রা.) আল্লাহর

ইবাদতে এতই মশগুল থাকতেন যে নিজের

দেহের প্রতি কোন খেয়ালই করতেন

না।

তিনি দেখতে ছিলেন উজ্জ্বল

ফর্সা মধ্যমা আকৃতির,চোখ দুটি ছিল

নীল সমুদ্রের মত, মাথার চুল ছিল আলু-

থালু ,উস্ক-শুস্ক। তিনি এতই ইবাদত

করতেন যে খাওয়া, ঘুম কাহাকে বলে

তা তিনি জানতেন না। এত কঠর

ইবাদতের ফলে তার পেট পিঠের

সাথে লেগে গিয়েছিল,সারা শরীর

ধনুকের মত বাঁকা হয়ে গিয়েছিল।

সারা

দেহে মাংস বলতে কিছুই ছিল না,ছিল

শুধু হাড় । দূর থেকে তাহার দেহের সব

হাড় গুলি একটা একটা করে গোনা

যেত। তিনি শত ছিন্ন তালি দেওয়া

কাপড় পড়তেন। সাধারণ মানুষ দেখে

তাকে রাস্তার পাগল বলে উপহাস করে

পাথর ছুড়ে মারতো,পাথরের আঘাতে

ফিনকি দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হত। তবুও

ওয়াস করনি কখনও কাউকে অভিশাপ

দিতেন না ।তিনি শুধু এই কথাই বলতেন

যে ” ভাই দয়া করে আমাকে ছোট ছোট

পাথর মারুন,যাতে পাথরের আঘাতে

রক্ত প্রবাহিত হওয়ার কারনে আমার অজু

যেন না ভেঙ্গে যায় ” ওয়াস করনি

দিন- রাত ইবাদত বন্দেগী করতেন।

দেখে মনে হত ইবাদতই ছিল তার দিন

রাতের খাবার। তিনি ছিলেন বড়ই

মাতৃ ভক্ত মায়ের আদেশ অক্ষরে অক্ষরে

পালন করতেন।শুধু তাই নয় তিনি

যেখানেই যেতেন মাকে ঘাড়ে

উঠিয়ে নিয়ে যেতেন। এক মুহূর্তের জন্য

তাহার মাকে মাটিতে পা ফেলতে

দিতেন না। কত বড় মায়ের ভক্ত হলে

এমনটি করা যায়, এ বড় ভাবনার বিষয় ।

 

ওয়াস করনির পিতা আব্দুল্লাহ ছিলেন

একজন মস্ত বড় ইহুদি ধর্মের আলেম।

এলাকায় তার খুব নাম যশ ছিল। ওয়াস

করনির বয়স যখন মাত্র ১০ বছর তখন তাহার

পিতা হঠাৎ মারা যাওয়ায় সংসারের

সকল দায়িত্ব তার ওপর আরোপিত হয়।

পিতার মৃত্যুতে তাদের আর্থিক অভাব

অনটনে দিন অতিবাহিত হতে থাকে।

কখনও এমনও দিন গেছে যে শুধু পানি

খেয়ে দিন অতিবাহিত হয়েছে।

তিনি বছরের অধিকাংশ দিনই রোযা

রাখতেন।দিনের শেষে শুধু একটি খেজুর

দিয়ে ইফতার করতেন।যেদিন বেশি

খেজুর ক্রয় করতেন সেদিন দুইটা একটা

খেজুর রেখে বাকি সবই ফকির

মিসকিনদের বিলিয়ে দিতেন। শত

অভাবে তিনি কারো কাছে হাত

পাততে না।ওয়াস করনির বহু আমির ভক্ত

ছিল যারা দামি দামি কাপড়, টাকা

পয়সা দিয়ে ওয়াস করনিকে সাহায্য

করতে চাইত,কিন্তু ওয়াস করনি তা

ফিরিয়ে দিয়ে শুধু বলতেন “আমার

দয়াল নবী করিম (সা.) ই যখন উম্মতের জন্য সকল

আরাম আয়েশ ছেড়ে দিলেন, তখন আমি

তার গোলাম হয়ে কিভাবে আরাম

আয়েশ করতে পারি ?” ।

ক্রমেই যখন

ওয়াস করনি খ্যাতি বাড়তে থাকে তখন

তিনি তার মাকে নিয়ে জঙ্গলে আত্ম

গোপন করেন,যাতে মানুষের কারনে

তার ইবাদত করতে কোন প্রকার অসুবিধা

না হয়। একসময় নবী মুহাম্মাদ (স) এর

আগমনের খবর পেয়ে এক মুসলমান

আউলিয়ার কাছে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন

এবং সেই সাথে তাহার মাতাকে ও

ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন। এভাবে

সারা জীবন আল্লাহ্ ও রাসুলের

প্রেমে নিজেকে উজার করে দিয়ে

অবশেষে দুনিয়া থেকে বিদায় নেন।

ওয়াস করনির গুনাবলি ও অলৌকিক

হযরত ওয়াইস করনী (রা.) ইয়েমেনের ” কারন শহরে খুবই সাধারণ এবং একাকী জীবন যাপন করিতেন স্বল্প আহার,রোজা ও অন্ধ মা-এর সর্বপ্রকার সেবা – সুস্রশা এবং একাকী ইবাদতের মাধ্যমে দিনাতিপাত করতে।

 

লোকেরা হযরত ওয়াইস করনী( রা.) কে পাগল বলিত এবং পাথর ছুড়িয়া মারিত। তখন তিনি তাহাদেরকে ছোট ছোট পাথর মারিতে বলিতেন যাহাতে ইবাদতের অসুবিধা না হয়।

 

হজরত ওয়াস করনী (রহঃ) কখনো মূর্তিপূজারী ছিলেন না

তিনি সর্বদাই মূর্তি পূজা অপছন্দ করতেন

 

অন্ধ মা -এর সুস্রশার ব্যাঘাত হবার ভয়ে সর্বকালের সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ আশেক হযরত ওয়াজ করনী (রা.), হযরত রাসূলপাকের (ﷺ) সাথে সাক্ষাৎ লাভ সম্ভব হয় নাই। মা – এর অনুমতির বাহিরে তিনি কোনও কাজ কোনও দিন করেন নাই।

একদা হযরত রাসূলপাক (ﷺ) সাহাবা-কেরাম (রা.)গনের নিকট বলেন ” আমার (ﷺ) উম্মতের মধ্যে এমন একজন আছেন যাহার প্রার্থনা’ রাবিয়া’ও মাজার ‘ খামারের সমুদয় ভেড়ার লোমের সমান সংখ্যক উম্মতের সকল গুনাহ মাফ হইবে। (সুবহানআল্লাহ)

 

সাহাবায়ে – কেয়ামগপ অতি আগ্রহর সাথে উক্ত উম্মতের সম্পর্কে জানিতে চাহিলে হযরত রাসূলপাক (ﷺ) অল্প ইতস্ততার পর বলিলেন তিনি করন শহরের ওয়াইস।

 

নবীজির ওফাতের পর ওয়ায়েস আল-করন (রা.) মাওলা আলী (আ.) এর সহিত অত‍‍্যন্ত ঘনিষ্ট সম্পর্কে তৈরি হয়। মাওলা আলী (আ.)-এর একান্ত অনুগত সহচর হিবাবে পরিচিত লাভ করেন।

পরবর্তী তিনি সিফফিনে মাওলা আলী (আ.) পক্ষ হয়ে মুয়াবিয়া বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। বিদ্রোহী মুয়াবিয়ার বাহিনীর হাতে সিফফিনের ময়দানে

৯৫ বছর বয়সে শাহিদ হন।

লেখকঃ

সৈয়দ আমিনুল এহসান ফেরদাউস আল কাদামী

সভাপতিঃ বাংলাদেশ মাজার দরগাহ রক্ষা কমিটি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024 আমাদের চ্যানেল
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: CloudVai-ক্লাউড ভাই