
খোলা চিঠি: একটি জনপদের প্রাণের আকুতি ও ন্যায্য অধিকারের জোরালো দাবি
বরাবর,
মাননীয় মন্ত্রী
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
(দৃষ্টি আকর্ষণ: মাননীয় সংসদ সদস্য, গাজীপুর-৪ এবং জেলা প্রশাসক, গাজীপুর)
বিষয়: কাপাসিয়ার ফকির মজনুশাহ সেতুতে টোল আদায়ের স্থায়ী অবসান ও জনস্বার্থের অবাধ মুক্তি প্রসঙ্গে।
মহোদয়,
একটি জনপদের দীর্ঘশ্বাস, বঞ্চনা ও ন্যায্য অধিকারের আকুতি থেকে উৎসারিত এই নিবেদন। গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ফকির মজনুশাহ সেতু—এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়; বরং এ অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবনযাত্রা, স্বপ্ন ও অর্থনৈতিক প্রবাহের একটি অনিবার্য সেতুবন্ধন।
কিন্তু গভীর পরিতাপের বিষয়, জনকল্যাণের এই প্রতীক আজ দীর্ঘস্থায়ী টোল আদায়ের ফলে সাধারণ মানুষের জন্য এক অনবরত আর্থিক ও মানসিক পীড়নের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো নির্মাণের মূল দর্শন হলো—জনগণের চলাচল সহজতর করা এবং অর্থনৈতিক প্রবাহকে গতিশীল করা। অথচ ফকির মজনুশাহ সেতুতে বছরের পর বছর টোল আদায়ের ধারাবাহিকতা সেই দর্শনের সাথে সাংঘর্ষিক। জনমানুষের দৃঢ় বিশ্বাস—দীর্ঘ সময় ধরে সংগৃহীত টোলের মাধ্যমে সেতুর নির্মাণব্যয় বহু আগেই আদায় হয়ে গেছে। এর পরেও টোল আদায়ের এই অব্যাহত প্রক্রিয়া জনগণের ওপর এক অনভিপ্রেত ও অন্যায্য আর্থিক বোঝা হিসেবে বর্তমান।
বিশেষত শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য এই টোল আজ এক ‘নিঃশব্দ দণ্ড’-এর রূপ নিয়েছে। প্রতিদিনের এই আর্থিক চাপ শুধু ব্যক্তি জীবনের কষ্ট বাড়াচ্ছে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতির স্বাভাবিক গতিশীলতাকেও বাধাগ্রস্ত করছে।
অতএব, সময়ের অনিবার্য দাবি ও গণমানুষের ন্যায্য প্রত্যাশার আলোকে আমরা দৃঢ়তার সাথে নিবেদন করছি:
টোল আদায়ের যৌক্তিকতা পুনর্মূল্যায়ন: বর্তমান বাস্তবতায় টোল আদায়ের প্রয়োজনীয়তা ও নৈতিক ভিত্তি জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা করা হোক।
আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ: এ যাবৎকাল সংগৃহীত টোলের পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও সেতুর নির্মাণব্যয়ের তুলনামূলক বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক।
টোলমুক্ত ঘোষণা: জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সেতুটিকে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গভাবে টোলমুক্ত ঘোষণা করা হোক।
মাননীয় মন্ত্রী, মাননীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক মহোদয়—
উন্নয়নের প্রকৃত সার্থকতা তখনই প্রতিফলিত হয়, যখন তা জনগণের জীবনযাত্রায় স্বস্তি বয়ে আনে এবং রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে দেয়। আমরা বিশ্বাস করি, আপনারা কাপাসিয়ার জনগণের এই ন্যায়সংগত ও সময়োপযোগী দাবির প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করবেন এবং একটি দূরদর্শী, জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে জনআস্থার প্রতিফলন ঘটাবেন।
এই জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা—আপনাদের প্রজ্ঞাময় ও দ্রুত পদক্ষেপের মধ্য দিয়েই বাস্তব রূপ পাবে।
ধন্যবাদান্তে,
(আশরাফুল আলম তাজ)
কলামিস্ট ও সমসাময়িক বিশ্লেষক
(কাপাসিয়ার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে)
অনুলিপি (সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য):
মাননীয় সংসদ সদস্য, গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া)।
জেলা প্রশাসক, গাজীপুর।
সচিব, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কাপাসিয়া।
নির্বাহী প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, গাজীপুর।
Leave a Reply