
কারোর সংসার ভেঙে যাক, তা কখনোই চাই নাই না
কাইয়ুম সরকার
হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এই মন্ত্র পাঠের মধ্যে দিয়ে একে অপরের অর্ধাঙ্গিনী হয়ে যান- যদিদং হৃদয়ং তব তদস্তু হৃদয়ং মম, যদিদং হৃদয়ং মম তদস্তু হৃদয়ং তব” (অর্থ: তোমার হৃদয় আমার হোক, আমার হৃদয় তোমার হোক)
সপ্তপদী: বিবাহের সময় বর-বধূ একত্রে সাতটি পা বা পরিক্রমা করেন, যাকে সপ্তপদী বলা হয়।
অন্যান্য: কন্যা সম্প্রদান, লাজহোম (অগ্নিতে খই উৎসর্গ) এর মন্ত্রও পাঠ করা হয়, যা ঋগ্বেদ ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকে নেওয়া ।
মুসলিম বিবাহের (নিকাহ) রীতি:
খুতবা-এ-নিকাহ: বিবাহের পূর্বে আরবিতে বিশেষ খুতবা পাঠ করা হয়, যাতে আল্লাহর প্রশংসা এবং রাসূল (সা.) এর ওপর দরুদ পাঠ করা হয়।
বিদেশ থেকে স্ত্রীকে (বা স্বামীকে) তালাক দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া…..
তালাকের নিয়ম মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৭ নম্বর ধারা অনুসারে নির্ধারিত। প্রবাসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্ট্যাম্প অ্যাক্ট, ১৮৯৯ এবং রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৯০৮-এর বিধানও প্রযোজ্য।
১: আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ
বাংলাদেশে পারিবারিক আইন সংক্রান্ত অভিজ্ঞ একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করুন। তিনি আপনার পক্ষ থেকে দলিল তৈরি, নিবন্ধন, এবং তালাক সংক্রান্ত নোটিশ প্রেরণ করবেন।
২: আমমোক্তারনামা (Power of Attorney) তৈরি ও সত্যায়ন
আপনি বিদেশে থেকে একজন প্রতিনিধি নিয়োগ দেবেন, যিনি আপনার হয়ে দেশে তালাক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। এজন্য তৈরি করতে হবে একটি আমমোক্তারনামা (POA)।
বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস বা কনস্যুলেটে এটি সাক্ষর ও সত্যায়ন (Attestation) করতে হবে। যেখানে দূতাবাস নেই, সেখানে স্থানীয় নোটারি বা অ্যাপোস্টিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যায়।
৩: স্ট্যাম্প আইনের আওতায় নিবন্ধন প্রক্রিয়া
সত্যায়িত POA বাংলাদেশে পাঠানোর পর দেশে দলিলটি স্ট্যাম্প অ্যাক্ট, ১৮৯৯-এর বিধান অনুযায়ী বৈধ স্ট্যাম্পে প্রস্তুত ও নিবন্ধন করতে হবে।
এই আইনের তফসিল-১, ক্রমিক ৪৭(বি) অনুসারে সাধারণ আমমোক্তারনামার ক্ষেত্রে সাধারণত ১,৫০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ব্যবহার করা হয়।
যদি এটি অপ্রত্যাহারযোগ্য (irrevocable) হয়, তাহলে প্রয়োজনে স্ট্যাম্প শুল্ক দলিলের পণমূল্যের ১.৫% (নূন্যতম ১০,০০০ টাকা, সর্বাধিক ১,০০,০০০ টাকা) পর্যন্ত হতে পারে।
স্ট্যাম্প শুল্কের অর্থ স্থানীয় সোনালী ব্যাংকের ট্রেজারি কোড নং ১-১১০১-০০২০-১৩১১-এ পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হয়।
নিবন্ধন আইন অনুযায়ী এই দলিলটি তিন মাসের মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধন করতে হবে, অন্যথায় এটি অকার্যকর বলে গণ্য হয়।
৪: তালাক নোটিশ প্রদান
নিবন্ধনের পর আপনার প্রতিনিধি তালাকের নোটিশ তৈরি করে নিম্নলিখিত স্থানে ডাকযোগে পাঠাবেন:
স্ত্রীর ঠিকানা
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌর মেয়রের কার্যালয়
নিজস্ব রেকর্ডের জন্য একটি কপি
নোটিশ প্রাপ্তির পর ৯০ দিনের আইনি সময়কাল শুরু হয়।
৫: সালিশি কাউন্সিল ও অপেক্ষার সময়
চেয়ারম্যান বা মেয়র ৩০ দিনের মধ্যে সালিশি (Arbitration) কাউন্সিল গঠন করবেন, যা ৯০ দিনের মধ্যে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করবে। এ সময়ে যদি সমঝোতা না হয়, তালাক কার্যকর হয়ে যায়।
৬: তালাক কার্যকর ও সনদ গ্রহণ
৯০ দিন শেষে তালাক কার্যকর হলে আপনার প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট পরিষদ দপ্তর থেকে তালাকের কার্যকরিতা সনদ (Certificate of Effectiveness) সংগ্রহ করবেন। এরপর কাজী অফিস থেকে তালাকনামার সীলযুক্ত কপি নেওয়া যাবে।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
ফোন বা ইমেইলে লিখিত ক্ষমতা দিয়ে তালাক কার্যকর নয়—শুধুমাত্র স্ট্যাম্প অ্যাক্ট অনুযায়ী নিবন্ধিত POA বৈধ।
POA’তে ক্ষমতার পরিধি শুধুমাত্র “তালাক সংক্রান্ত” কাজের জন্য সীমাবদ্ধ করতে হবে।
সব নথির কপি ও ডাক প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করুন।
প্রবাসে অবস্থান করেও বাংলাদেশের আইনের পূর্ণ মেনে তালাক কার্যকর করা সম্ভব। এই প্রক্রিয়ায় স্ট্যাম্প আইনের যথাযথ প্রয়োগ, দলিল নিবন্ধন, এবং ৯০ দিনের সালিশি সময়কাল পালনের মাধ্যমে আপনার তালাক বৈধতা পায়। একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তায় প্রবাস থেকেও এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও আইনসংগতভাবে সম্পন্ন করা যায়।
লেখক :কাইয়ুম সরকার
University of essex :LLM international Law
University of Queen Mary: public Interest Litigation( PIL)
#Bangladesh #unitedkingdom
#italy
#Cumilla
Leave a Reply