
ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক মাওলা আলী (আঃ)।
১৩ই রজব মাওলা আলী (আঃ) এর আবির্ভাব দিবস
, শাহ সূফী খলিল জালালী
◾আল্লাহর বন্ধু
“আশহাদু আন্না আলী উন অলী উল্লাহ
আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে , আলী (আঃ) হচ্ছেন আল্লাহ কতৃক প্রেরিত একজন অলী” ।
◾ সুন্নীদের চার প্রসিদ্ধ ইমামের এক ইমাম হলেন হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) ৷
তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন হাদিসবেত্তা হিসাবেও ৷ তাঁর একটি বিখ্যাত কিতাবের নাম “আহমাদ বিন হাম্বাল” সেই কিতাবের ‘ফাজায়েলুস সাহাবা’ অধ্যায়ে .. ১০৩৫ নাম্বার হাদিসে তিনি সংকলণ করেছেনঃ
আল্লাহর হাবিব হযরত মুহাম্মাদ ( সাঃ) বলেছেনঃ “আলী আমার থেকে আর আমি আলী থেকে, এবং আলী আমার পর সমস্ত মোমিনদের ওলী” (অবিভাবক,/মালিক, /সারপারাস্ত)
(হাদিসটি’র সনদ: হাসান)
এই ওলীত্বটি খোদ আল্লাহ দিয়েছেন ৷ ওলী মানে বন্ধুও হয় ৷ পৃথিবীতে বিখ্যাত সুপ্রতিষ্টিত আল্লাহর তিন বন্ধু আছেঃ
(১) হযরত ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ অর্থাৎ ইব্রাহিম আল্লাহর বন্ধু ৷
(২) হযরত মুহাম্মাদ হাবিবুল্লাহ অর্থাৎ মুহাম্মাদ আল্লাহর বন্ধু ৷
(৩) হযরত আলীউন ওলী উল্লাহ অর্থাৎ আলী আল্লাহর বন্ধু ৷
তিনজন আল্লাহর বন্ধুর মধ্যে হযরত আলী (আঃ) এমন বন্ধু যিনি ……
(১) আল্লাহপাক নিজে তাঁর বন্ধু’ আলী(আঃ)’কে, তাঁর ঘর কাবার অভ্যন্তরে জন্মগ্রহণ(আবির্ভাব ঘটিয়েছেন) করিয়েছেন ৷
(২) হযরত আলী (আঃ) এমন এক বন্ধু যার নামটিও এমন সরাসরি আল্লাহর নামের একটি নাম ৷ আল্লাহর এক নামও আলী ৷
(৩) হযরত আলী (আঃ) আল্লাহর এমন এক বন্ধু, যার বিবাহ খোদ আল্লাহপাক আরসে নিজে মা ফাতিমাতুয যাহরার (সা.আ.) সাথে বিয়ে পড়িয়েছেন ৷
◾ হযরত আলী (অঃ) এমন এক আল্লাহর বন্ধু, যাকে আল্লাহর বাঘ হিসাবে ডাকা হয় ৷
◾ হযরত আলী (আঃ) আল্লাহর এমন এক বন্ধু, যে আলীর চোখ, আয়নুল্লাহ, যার হাত ইয়াদুল্লাহ, যার জিব লিসানুল্লাহ, যার চেহারা ওয়াজুল্লাহ ইত্যাদি ৷
◾ হযরত আলী (আঃ) আল্লাহর এমন এক বন্ধু, স্ত্রী খাতুনে জান্নাত, যার দুই সন্তান জান্নাতের সার্দ্দার, যার শ্বশুর সাইয়েদুল আম্বিয়া, যার শ্বাশুড়ি খাদিজাতুল কুবরা, যার আব্বা ইসলামের সাহায্যকারী হযরত আবু তালিব আঃ, যার মা নবীর লালন-পালনকারী ফাতিমা বিনতে আসাদ, যার এক সন্তান ইসলামের পতাকাধারী আব্বাস আলমদার, যার এক কন্যা বিদূষীকন্যা কারবালার পর ইসলামকে আযাদারীর মাধ্যমে ঘরে ঘরে পৌঁছানোকারী দ্বিতীয় যাহরা হযরত যয়নাব (সাঃআঃ),
◾ হযরত আলী (আঃ) আল্লাহর এমন এক বন্ধু যিনি নবীর রিসালতের জ্ঞানগনরীর একমাত্র দ্বার, তাঁর মুকাবেলায় যে দ্বার হতে যাবে সে হবে ফেতনার দ্বার ৷
◾ হযরত আলী (আঃ) আল্লাহর এমন এক বন্ধু, যার ওলীত্ব, মওলাইয়াত, অথবা বেলায়তের ঘোষণার মাধ্যমে গাদীরে খুমে সকল নবীর আনিত দ্বীন পরিপূর্ণতা লাভ করেছে, এ প্রসঙ্গে আল্লাহপাক বলেছেনঃ হে রসুল !আপনি পৌছিয়ে দিন আপনার নিকট যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, আপনি যদি এরুপ না করেন, তাহলে দ্বীনের (রিসালাতের)কোন কাজই করলেন না ৷
◾হযরত আলী (আঃ) আল্লাহর এমন এক বন্ধু, যিনি ইরাকের যেখানে শায়িত আছেন, সে স্থানটির মর্যাদা বেড়ে হয়ে উঠেছেঃ “নাজাফে আসরাফ” ৷ পৃথিবীতে বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থানের নাম শরিফ, কিন্তু মওলা আলীর রওজার মর্যাদায় হয়েগেছে নাজাফ এ আসরাফ ৷
◾হযরত আলী (আঃ) আল্লাহর এমন এক বন্ধু, যার চেহারা দেখা এবাদত, যার কথা বলা এবাদত, যার আলোচনা করা এবাদত, যাকে নিয়ে জিকির করা এবাদত।
◾শেরে খোদা মাওলা আলী (আলাইহিস সাল্লাম) এর- মাহাত্ম্য বোঝাতে -প্রিয় নবী (সাঃ) ঘোষণা করেন, যে আমার উপর ঈমান এনেছে ও আমাকে নবীরূপে স্বীকার করেছে তাকে আমি আলীর কাছে পাঠাই সত্যায়নের জন্য।
কাঞ্জুল উম্মাল, ১২তম খ, হাদিস নং ১১৯৩।
ইয়া সাহেবুজ্জামান (আঃ)
আদরিকনী আদরিকনী ,আদরিকনী
ইয়া আলী, ইয়া আলী, ইয়া আলী আদরীকনি।
আল্লাহুমা সল্লে আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলে মুহাম্মাদ ওয়া আজ্জিল ফারাজাহুম।
হে ইমামে সাহেবুজজামান (আঃ) আপনার আগমন তরান্বিত হোক-
Leave a Reply