
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বীরত্ব গাঁথা মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাস – সংগ্রহেঃ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন
পরিচিতিঃ মোহাম্মদ হোসেন (খনী মিয়া)
পিতাঃ মৃত ডাঃ মোঃ গণী মিয়া
গ্রামঃ নেয়ামত পুর, পোস্টঃ মূলগ্রাম,
উপজেলাঃ কসবা, জেলাঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
আমি একজন ১৯৭১ ইং সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের যুদ্ধাহত পঙ্গু বীর মুক্তিযোদ্ধা। সৈনিক নং ১৩০৮০ নাঃ মোঃ হোসেন। তৎকালীন (ই পি আর) ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পরবর্তীতে (বিডিআর) বাংলাদেশ রাইফেলস এর একজন বীর সৈনিক।
ডিসেম্বর মাস আশলেই মনে করিয়ে দেয় যুদ্ধ ক্ষেত্রের সেই ভিবিশিখা ময় মুহূর্তের কথা।
আমি যে মুক্তিযুদ্ধ করেছি তাহার আংশিক অংশ আপনাদের ঘ্যাতার্থে বর্ণনা করছিঃ
১২ উইং খাদেম নগর সিলেটের অপারেশন এর বিবরণ:২৫ শে মার্চ ১৯৭১ দিবাগত রাত্রে শত্রুরা খাদেম নগরে আক্রমন এবং ফায়ার শুরু করে।২৬ মার্চ ১৯৭১ ইং খাদেম নগর ১২ উইং আমাদের কোয়ার্টার গার্ডের গার্ড কমান্ডার হাবিলদার আব্দুল মজিদকে শত্রুরা গুলি করিয়া মারিয়া ফেলে এবং ব্যারাকে আসিয়া হাবিলদার শরাফত ও সিপাহী আঃ রাজ্জাককেও গুলি করিয়া মারিয়া ফেলে পরে তাদের দুজনকে খাদেম নগর কবর দেওয়া হয়।ঐ দিন হইতে আমরা শতস্ফুর্ত ভাবে মুক্তি যুদ্ধ আরম্ভ করি। যুদ্ধরত অবস্থায় কতদিন যে না খেয়ে থাকতে হয়েছে।খাবারের কোন ব্যাবস্থা ছিল না। তার পর তামাবিল চেকপোস্ট দিয়ে আমারা ভারতের মেঘালয় স্টেটে আশ্রয় নেই। মেঘালয় স্টেটে হইতে আমাদেরকে প্রচুর পরিমাণে হাতিয়ার ও গুলা বারুদ দিয়ে সহযোগিতা করে আরও বলেছেন যত গুলা বারুদ লাগে আমরা সাপ্লাই দেব এবং ঠিকই সাপ্লাই দিতে থাকে। গুলা বারুদ নিয়ে আমরা বাংলাদেশের ভিতরে এসে শত্রুদের ডিফেন্সের ভিতরে প্রবেশ করিয়া অপারেশন শুরু করি। কিছু উল্লেখযোগ্য ফলাফলের বর্ণনা তুলে ধরলামঃ
১| ৩০ শেষ মার্চ ১৯৭১ ইং খাদেম নগরে ০২ জন পাক হানাদার বাহিনীর সৈনিক কে গেইটের সম্মোখে রসি দিয়ে হাতে পায়ে বেধে দারানো অবস্থায় গুলি করে মেরে ফেলি।
২| ১০ এপ্রিল ১৯৭১ ইং হরী পুরে আমরা শত্রুদের বিরুদ্ধে ডিফেন্স করিবার কয়েক দিন পর শত্রুরা আমাদের উপর আক্রমণ করিলে আমাদের অনেক লোক মারা যায় প্রায় ১০০ জনেরও উপরে মরা যায়।
৩| ১৫ জুন ১৯৭১ ইং জৈন্তাপুর গুয়াবাড়ি শত্রুদের ব্যাংকার হইতে মালেক নামের এক জন বাঙালী ছেলেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই।
৪| ১৬ জুন ১৯৭১ ইং চতুল বাজার হইতে ০২ জন রাজাকার কে গুলি করে মেরে ফেলি এবং চতুল বাজারটি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতে সক্ষম হই।
৫| ১৮ জুন ১৯৭১ ইং আমাদের শ্রীপুর বিওপিতে আমরা শত্রুদের উপর আক্রমণ করিলে শত্রুদের অনেক লোক মারা যায় কিন্তু আমরা তাদের লাশ আন্তে পারিনি। এলাকার লোকজনের মাধ্যমে জানতে পাই আহত এবং মৃত অনেক লোক তাহারা গাড়িতে লোড করে পিছনে খাদেম নগর নিয়ে বাক্স ভরে দাফন করিয়াছে।
৬| ২০ জুলাই ১৯৭১ ইং জৈন্তাপুর থানা এলাকা হইতে একজন বাঙালি দারুগা ও দুই জন কনস্টেবল কে বন্দী করে ভারতে নিয়ে যাই এবং পরে নির্দুশ প্রমাণ হওয়ায় তাদেরকে ছাড়িয়া দেই।
৭| ২৬ জুলাই ১৯৭১ ইং গুয়াইন ঘাট থানা এলাকা হইতে ০২ জন বিহারী একজন হাবিলদার এক জন ল্যাঃনায়েক কে গুলি করে মেরে ফেলি।
৮| ৩০ জুলাই ১৯৭১ইং তামাবিল চেকপোস্ট এ্যাঁটাক করিতে গেলে শত্রুদের বোম পড়িয়া ফজলু নামে আমাদের একজন সিপাহী মারা যায়।বোমাটি তাহার মাথায় পরিয়া ছিল।পরে সিপাহী ফজলু কে কাফনের কাপড় না পাওয়ায় সরকারি কম্বল দিয়ে চেকপোস্টের নিকটে পশ্চিম পার্শ্বে বাংলার মাটিতে দাফন করা হয়।
৯।১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ এই দিনটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর ঐ দিন সিলেটের জৈন্তা থানার বৈঠাখালি নামক স্থানে শত্রুদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করি।গুলা গুলির এক পর্যায়ে কখন যে আমার বাম হাতের কনুইয়ের ওপর শত্রুদের একটি গুলি ভেত করে আমি বুঝতে পারিনি। আমার পাশের একজন সহ যোদ্ধা দেখতে পায় আমার হাত থেকে তাজা রক্ত ঝরছে। তখন সে আমাকে সেফ করে এবং আমাকে সাথে সাথে ভারতে পাঠিয়ে দেয়।
এই ছিল আমার জীবনের যোদ্ধ ক্ষেত্রের উল্লেখযোগ্য কিছু অপারেশন এর বর্ননা। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি এখনও বেচে আছি। দেশের ১৮ কুটি মানুষের কাছে দোয়ার প্রার্থী আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন আল্লাহ যেন আমাকে সুস্থ রাখেন।
Leave a Reply