
“হযরত কেবলা ও বাবাভাণ্ডারী দু’জন দু’জনার, মিলে মিশে একাকার” – রাবেয়া বসরী মাইজভান্ডারী
হজরত গাউছুল আজম মাওলানা আল ছৈয়দ গোলামূর রহমান আল-হাচানী আল-মাইজভাণ্ডারী (কঃ) বাবাজান কেবলা কাবার সিরত, সুরত, সিফত, শান, মান, ইজ্জত, আজমত, কেরামত বর্ণনা করা বা লিখা সাধারন কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব না। কারণ দয়াল বাবাভাণ্ডারী (কঃ)র শান এত ব্যাপক ও অসীম যা স্বয়ং আওলিয়াল্লাহগণও তাঁর বেলায়তের মকান দেখে আত্মহারা হয়ে এই পবিত্র কদমে অবনত মস্তকে লুটিয়ে পড়েছেন। বাবাভাণ্ডারী(কঃ)র রুপে, গুনে মুগ্ধ হয়ে, রহমত ও নিয়ামতে ধন্য হয়ে শেরে-বাংলা হুজুর তাঁর শান ও আজমতকে কে উদ্দেশ্য করে দেওয়ান-ই আযীয লিখতে থাকেন। তিনি বাবাভাণ্ডারী(কঃ)র প্রেমে ফিদা, বেকারার ও দেওয়ানা, মাস্তানা হয়ে বাবাভাণ্ডারী(কঃ)র শান ও আজমতের শানে দেওয়ান-ই আযীযে লিখেন-
শুদ কারা-মা-তশ ব-রূঁ- আয হদ্দে তাহরি-র ও বয়াঁ-
মরধুমাঁ-পুর ফয়য বা-শন্ধ দা-ইমান আয যা-তে শাঁ-
অর্থ-তাঁর কেরামাত সমূহ লেখনী ও বর্ণনার বাইরে চলে গেছে।
মানুষ সবসময় তাঁর বরকতময় সত্তা থেকে ফয়য প্রাপ্ত হয়ে ধন্য হচ্ছে।
সৈৗদি সরকারের পক্ষ থেকে রাজকীয় গ্র্যাণ্ড মুফতী কর্তৃক “শেরে ইসলাম“ ও শেরে বাংলা” উপাধি প্রাপ্ত, তৎকালীন ইমামে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের প্রেসিডেন্ট আল্লামা গাজী সৈয়দ মুহাম্মদ আজিজুল হক শেরে বাংলা আল-কাদেরী (রহ.) ফার্সি ভাষায় স্বরচিত বিশ্বব্যাপী সমাদৃত কিতাব দেওয়ান-ই আযীয। আওলাদে রাসুল (সাঃ) আওলিয়াল্লাহ, গাউস, কুতুব, আবদালদের পরিচিতি, অবস্থা ও অবস্থান, শান, মান মর্যাদার এক সুবিন্যাস্ত জ্ঞান-ভাণ্ডার এই দেওয়ান-ই আযীয কিতাব। ফার্সি ভাষায় ছান্দসিক, প্রাঞ্জল, কাব্যিক এই অনন্য সৃষ্টি সুগভীর জ্ঞানী স্রষ্টা সন্ধানী পথিকদের জন্য এক বিশাল দিক নির্দেশনা এই দেওয়ান।
তিনি পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ইমাম ছিলেন। তিনি “দিওয়ানে আজিজ” কিতাব যখন লিখেছেন, তিনি “দিওয়ানে আজিজ” কিতাবের মধ্যে গাউসুল আযম আহমেদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারীকেও গাউসুল আযম লিখেছেন, গাউসুল আযম গোলামুর রহমান মাইজভাণ্ডারীকে সানীয়ে গাউসুল আযম লিখেছেন। তিনি নিঃসন্দেহে আল্লাহ্র একজন প্রিয় ওলী ও রাসুলের (সাঃ) প্রিয় আশেক, হযরত গাউসুল আজম মাওলানা শাহসুফী সৈয়দ আহামদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ও হযরত গাউসুল আজম মাওলানা শাহসূফী হযরত সৈয়দ গোলামুর রহমান আল হাসানী, আল মাইজভাণ্ডারী (ক.) প্রকাশ বাবা ভাণ্ডারীর (ক.)র ফয়য ও রহমতে ধন্য এক অনন্য অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। যিনি তৎকালে সৌদী আরবে বাদশার সাথে চ্যাঁলেঞ্জ করে শানে রিসালাতের ওপরে তিনি আরবিতে বক্তব্য দিয়েছেন আরাফাতের ময়দানে।
শেরে-বাংলা হুজুর এই দেওয়ানে বাবাভাণ্ডারী (কঃ) ও হজরত কেবলার মহিমান্বিত শান বয়ান করেছেন হুজরে পাক (সাঃ)র রূহানী নির্দেশে।
তাই তিনি তাঁর দেওয়ান-ই আযীযে লিখেন-
বু-দ উ- মাজযু-বে সা-লেক দরমিয়া-নে আওলিয়া-
নূ-রে চশমে আহমাদুল্লা-হ গাউছুল আ’যম মারহাবা-
অর্থাৎ- তিনি ওলীগণের মধ্যে ‘মাজযুব-ই সালিক’ ছিলেন।
তিনি হযরত গাউসুল আ’যম আহমদুল্লাহ রাহমাতুল্লাহি তা’আলা আলায়হি’র চোখের আলো; তাঁকে স্বাগতম।
হযরত কেবলা কাবা যেই চোখ দিয়ে তিনি দেখতেন সেই চোখের আলো হলো দয়াল বাবাভাণ্ডারী কেবলা কাবা। বাবাজান কেবলার এই ধরাধামে শুভ আগমনের আগেই মাতৃগর্ভে থাকাকালীন সময়ে হযরত কেবলা পাক জবানে বাবাজান কেবলার শান ও আজমতের দিকে লক্ষ্য করে বাবাজান কেবলাকে “পীরানে পীর” খেতাবে ভূষিত করে সম্মান জানিয়েছেন। সত্যসন্ধানী, তাই এই সব নিয়ে বাড়াবাড়ি না করায় ভালো কারণ দু’জনেই স্ব-মহীমায় উজ্জ্বল।
তাই হযরত চিনে বাবাভাণ্ডারীকে আর বাবাভাণ্ডারী চিনে হযরতকে। দু’জন দু’জনার, মিলে মিশে একাকার। তাই ওনাদের নিয়ে পার্থক্য, মতবেদ না করে ওনাদের ফয়ূজাত হাসিল করে জীবন ও জনম যাতে ধন্য করা যায় সেই দিকে আমাদের লক্ষ্য করলে আমরা উপকৃত হব অন্যথায় রহমতের বদলে গজব নেমে আসবে।
#৭ই_ভাদ্র #7th_vadro
প্রচারেঃ আশেকানে মাইজভাণ্ডারী এসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম।
(ইহা একটি অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন)
Leave a Reply