পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে মিলাদ-কিয়াম ও আলোচনা সভা
মহররম হোসেন, আমাদের চ্যানেলঃ “সকল ঈদের সেরা ঈদ, ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ”—এই পবিত্র ও হৃদয়স্পর্শী শ্লোগানকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকায় যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ সম্মেলন ও সালাতু-সালাম মাহফিল।
গত ১২ সেপ্টেম্বর, শনিবার, ঢাকার বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ হল, তোপখানা রোডে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উদযাপন পরিষদ, ঢাকার উদ্যোগে এ বর্ণাঢ্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর পবিত্র জন্ম ও শুভাগমন উপলক্ষে আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, আইনজীবী, চিন্তাবিদ, সমাজসেবী, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।
নবীপ্রেম ও মানবতার বার্তায় মুখরিত আয়োজন
অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই পুরো মিলনায়তনে সৃষ্টি হয় এক আধ্যাত্মিক ও ভাবগম্ভীর পরিবেশ। দরুদ ও সালাতু-সালামের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর জীবন, আদর্শ, চরিত্র ও মানবতার শিক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
বক্তারা বলেন, রাসুলে করিম ﷺ-এর শুভাগমন সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য রহমত। তাঁর পবিত্র জীবনাদর্শ মানুষের জন্য সত্য, ন্যায়, শান্তি, সহমর্মিতা, মানবতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর আদর্শ অনুসরণ এবং সমাজজীবনে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে যুবসমাজ নানা ধরনের সামাজিক ও নৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই তরুণ প্রজন্মকে মহানবী ﷺ-এর আদর্শ, চরিত্র ও নবীপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। নবীজির ﷺ শিক্ষা অনুসরণ করে নৈতিকতা, সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপর বক্তারা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, ভাইস চ্যান্সেলর, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক জজ, ওমাচিব বিসিএস (বিচার) এসোসিয়েশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং বাংলা আজমির শরফের প্রধান খলিফা, পীরে তরিকত, আওলাদে রাসুল শাহসূফী সৈয়দ আবদুল্লাহ শহীদ আল-হোসাইনী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আল মামুন, আন্তর্জাতিক ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা মজিবুর রহমান রেজভী আল কাদরী আল জালালী, শাহসূফী মোঃ খলিলুর রহমান, খাদেম, বাংলার আজমির শরীফ, শাহসূফী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন মাইজভান্ডারী, শাহসূফী মোঃ আমিনুল এহসান ফেরদৌস, শাহসূফী মোঃ রতন চিশতি মাইজভান্ডারী, মোঃ ইমন ওয়াজেদী, মোঃ সিফাত খানসহ দেশের বিশিষ্ট পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, আইনজীবী এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মিলাদ ও কিয়ামে আধ্যাত্মিক আবহ
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সৃষ্টি হয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ। বিশ্ব সূফী ঐক্য পরিষদের মহাসচিব, শাহসূফী মাওলানা মোহাম্মদ বেলাল নূরী-এর সুমধুর কণ্ঠে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র মিলাদ ও কিয়াম। দরুদ ও সালাতু-সালামের মধুর ধ্বনিতে পুরো মিলনায়তন এক আবেগঘন ও আধ্যাত্মিক আবহে পরিণত হয়।
মিলাদ ও কিয়ামের পর দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মুসলমানদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির শান্তি, নিরাপত্তা, ঐক্য এবং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়।
ধর্মপ্রাণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে মিলনায়তন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। নবীপ্রেমে উদ্বুদ্ধ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে করে তোলে প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ-এর শিক্ষা হলো—মানবতার কল্যাণ, শান্তি প্রতিষ্ঠা, ন্যায় ও সত্যের পথে অবিচল থাকা এবং মহানবী ﷺ-এর উত্তম আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করা। রাজধানীর এ আয়োজন সেই নবীপ্রেম, মানবতা ও সম্প্রীতির চেতনাকেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর আদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার এবং তাঁর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা অন্তরে ধারণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মহররম হোসেন মাহ্দী