ধর্মের নাম ব্যবহারে মিথ্যা অভিনয় করা মানুষদের পরকাল কেমন হবে ? - আল্লামা হানিফ নূরী পীর সাহেব
ধর্মের নাম ব্যবহার করে মিথ্যা অভিনয় ও প্রতারণা করে দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিল করার পরিণতি ইসলামে অত্যন্ত ভয়াবহ।
পবিত্র কুরআন-সুন্নাহ মতে এ ধরনের মুনাফিক ও প্রতারকদের জন্য কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তাদের পরকালের পরিণতির মূল দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:
কঠিন লাঞ্ছনা:
যারা দুনিয়ায় ধর্মের লেবাস পরে মানুষকে ধোঁকা দেয় এবং দুনিয়াবি স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়, পরকালে তাদের জন্য রয়েছে চরম অপমানজনক শাস্তি।
পবিত্র কুরআনে (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১৭৪) বলা হয়েছে, যারা আল্লাহর বিধান গোপন করে এবং তা বিক্রি করে সামান্য মূল্য নেয়, তারা আগুন ছাড়া অন্য কিছু খায় না। কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না।
মুনাফিকদের ঠিকানা:
ধর্মকে ব্যবসার মাধ্যম বানানো এবং মিথ্যা অভিনয় করা মুনাফিকির অন্যতম লক্ষণ। কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, মুনাফিকদের স্থান হবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে (সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৪৫)।
আমল বিনষ্ট হওয়া:
লোক দেখানো বা দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিলের জন্য ইবাদত করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।
ধর্মীয় প্রতারক মুনাফিকের পরকাল !
সর্বনিম্ন ক্ষমা:
সাধারণ পাপীদের জন্য পরকালে মুক্তির বা ক্ষমার সুযোগ থাকলেও মুনাফিকদের জন্য আল্লাহর ক্ষমা লাভের কোনো সুযোগ থাকবে না।
আলো থেকে বঞ্চিত হওয়া:
হাশরে ঈমানদাররা যখন নূর বা ঐশ্বরিক আলো পাবেন, তখন মুনাফিকদের আলো নিভে যাবে। তারা ঘোর অন্ধকারে পতিত হবে এবং মুমিনদের কাছে আলোর জন্য অনুনয়-বিনয় করেও কোনো সাহায্য পাবে না।
চিরস্থায়ী শাস্তি:
খাঁটি মুনাফিকরা, যারা অন্তরে কুফরি (অবিশ্বাস) পোষণ করে ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের ক্ষতি করার জন্য প্রতারণার আশ্রয় নেয়, তারা চিরকাল জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে এবং তাদের এই শাস্তি কোনোদিন লাঘব করা হবে না।
পবিত্র কুরআনে (সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৪৫) স্পষ্ট করে বলা হয়েছে,
"নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করবে এবং আপনি তাদের জন্য কখনও কোনো সাহায্যকারী পাবেন না।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মহররম হোসেন মাহ্দী