লাঠির জোরে যারা ধর্ম কায়েম করতে চায় বা শিরকমুক্ত ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তারা কি মহানবী (সঃ) এর আদর্শ লালন করে ? - আল্লামা হানিফ নূরী পীর সাহেব
লাঠির জোরে যারা ধর্ম কায়েম করতে চায় বা শিরকমুক্ত ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তারা কি মহানবী (সঃ) এর আদর্শ লালন করে না।
ইসলামে বলপ্রয়োগ বা লাঠির জোরে ধর্ম কায়েমের কোনো স্থান নেই। মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ও ইসলামের মূল ইতিহাস অনুযায়ী, জোর-জবরদস্তির মাধ্যমে ধর্ম প্রচার বা প্রতিষ্ঠা করার বিষয়টি তাঁর শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
মহানবী (সা.)-এর আদর্শের মূল ভিত্তিগুলো নিচে দেওয়া হলো:
শান্তিপূর্ণ প্রচার: পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, "দ্বীনের (ধর্মের) ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।" (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৫৬)।
মহানবী (সা.) আজীবন ভালোবাসা, সদ্ব্যবহার ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন।
মক্কা বিজয় ও ক্ষমা:
মক্কা বিজয়ের পর মহানবী (সা.) তাঁর চরম শত্রুদেরও সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন, যা ইতিহাসে বিরল। তিনি তরবারি বা লাঠির জোরে কারো ওপর ধর্ম চাপিয়ে দেননি।
মদিনা সনদ:
বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মানুষের সাথে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য তিনি 'মদিনা সনদ' স্বাক্ষর করেছিলেন, যা আদর্শ রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
সহনশীলতা:
শিরকমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য তিনি মানুষকে তাওহীদের দিকে ডেকেছেন যুক্তির মাধ্যমে, লাঠির জোরে নয়।ইসলামের দৃষ্টিতে বলপ্রয়োগ বা বাড়াবাড়ির কোনো সুযোগ নেই। ধর্ম হলো অন্তরের বিশ্বাস, যা জোর করে প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
-------------------
———-আধ্যাত্মিক গবেষক ও লেখক শাহসুফি আল্লামা হানিফ নূরী পীরসাহেব,
নূরে হক দরবার শরীফ,
মহাসচিবঃ আশিক্কীনে আউলিয়া ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশ।
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানঃ হযরত লাডুমশাহ (রঃ) আধ্যাত্মিক গবেষনা কেন্দ্র।
সন্মানীত উপদেষ্টাঃ জাতীয় দৈনিক “ঐশি বাংলা” পত্রিকা।
প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষঃ সানফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজ।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মহররম হোসেন মাহ্দী