“মাওলার অভিষেক” বিষয়ের দালিলিক আলোচনায় গেলেই প্রকাশ পায় এ ঘটনার রহস্য ও হাকিকত ।
-আল্লামা হানিফ নূরী পীর সাহেব
মাওলার অভিষেক (গাদীর-এ-খুমের ঘটনা) হলো ১০ হিজরীর ১৮ই জিলহজ্ব বিদায় হজ থেকে ফেরার পথে রাসূলে পাক (সা.) কর্তৃক হযরত আলী (আ.)-কে মুসলিম উম্মাহর অভিভাবক, নেতা ও মাওলা (বন্ধু/অভিভাবক) হিসেবে ঘোষণা করা।
"আমি যার মাওলা, আলী তার মাওলা" — এই ঐতিহাসিক ঘোষণার মাধ্যমে ইসলামের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা সুনিশ্চিত করা হয়েছিল।
প্রমানিত এ সত্য ঘটনা কেনো মানুষের আড়ালে ?
দয়াল নবী (সঃ) ও আহলে বায়েতের শত্রুরা বিশেষ করে উমাইয়ারা রাজনৈতিক ক্ষমতার কারনে এ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়।
রহস্য গভীরে…..
‘মাওলার অভিষেক’
গাদিরে খুমের ঘটনা এমন একটি ঘটনা, ধর্মীয় ইতিহাসে যার গুরুত্ব ব্যাখ্যার কোনও অপেক্ষা রাখে না।
রাষ্ট্র পরিচালকগণ এর গুরুত্ব সম্যক অবগত ছিলেন বলেই পরবর্তী সময়ে সেখানে আগত অহিবাক্য দু’টি একই স্থানে পাশাপাশি অবস্থান লাভ করতে পারেনি।
ফলত প্রথম বাক্যটি থেকে মাওলার নাম বাদ দেয়া হয়েছে এবং শেষ বাক্যটি অন্যত্র অপ্রাসঙ্গিক একটি বড় বাক্যের মধ্যে আত্মগোপন করানো হয়েছে।
এটা স্বতন্ত্র একটি ‘আয়াতরূপ’-এ অবস্থান লাভ করতে পারে নাই।
এভাবে গাদিরে খুমের অভিষেক ক্রিয়ার উল্লেখ কোরান থেকে এক প্রকার মুছেই ফেলা হয়েছে।
পরবর্তী রাষ্ট্রীয় প্রচার চক্রান্ত তথা উমাইয়া এবং আব্বাসীয় চক্রান্ত এ বিষয়টির উল্লেখ সমাজের বৃহত্তম অংশের স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে সক্ষম হয়েছে,
যদিও তা একেবারে মুছে ফেলা সম্ভবপর হয় নাই। হাদিসে রসুল এবং ইতিহাস আজও তার সাক্ষ্য বহন করে আসছে।
পরবর্তীকালের সকল ধর্মীয় বিবাদ এবং রাষ্ট্রীয় বিবাদের মূল উৎসমুখ হলো ঐতিহাসিক এই অভিষেক ক্রিয়া। এটা অমান্য করবার পর থেকে মুসলমানের ধর্মমত ও পথ বিভ্রান্তির শতধারায় বিভক্ত হয়েছে। অতএব, আরব জাতির ইতিহাস এবং আমাদের ইসলাম ধর্মের বিবর্তনের মূলসূত্র সন্ধান করতে গেলেই মনের মধ্যে জেগে উঠে “গাদিরে খুম”।
মাওলার অভিষেকের (গাদীর-এ-খুম) হাকিকত বা মূল বিষয়সমূহ:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটঃ
বিদায় হজ শেষে মদীনার ফেরার পথে জুহ্ফার কাছে গাদীর-এ-খুম নামক স্থানে হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে সুরা মায়েদাহ-এর ৬৭ নং আয়াত নাযিল হয়, যা রাসূল (সা.)-কে এই জরুরি ঘোষণার নির্দেশ দেয়।
ঘোষণার মূল কথা:
রাসূল (সা.) হযরত আলী (আ.)-এর হাত উঁচুতে তুলে ঘোষণা করেন,
"من كنت مولاه فهذا علي مولاه"
(আমি যার মাওলা, আলী তার মাওলা)।
তাৎপর্য (হাকিকত):
এটি ছিল ইমামত ও বেলায়েতের (আধ্যাত্মিক অভিভাবকত্ব) অভিষেক। এর মাধ্যমে আলী (আ.)-কে রাসূলের পর মুসলমানদের সঠিক অভিভাবক হিসেবে মনোনীত করা হয়।
সাহাবীদের অভিনন্দন:
এই ঘোষণার পর হযরত আবু বকর ও উমর (রা.) সহ উপস্থিত সাহাবীরা আলী (আ.)-কে অভিনন্দন জানান।
ঈদে গাদীর: এই দিনটিকে প্রতি বছর আহলে বায়েত (পাঁক-পান্জাতন) প্রেমিকরা ১৮ জিলহাজ্জ
"ঈদে গাদীর" বা 'গাদীর দিবস' হিসেবেও পালন করে থাকেন।
জয় পাঁক-পান্জাতন, জয় নূরীতন।
—————আধ্যাত্মিক গবেষক ও লেখক শাহসুফি আল্লামা হানিফ নূরী পীরসাহেব,
নূরে হক দরবার শরীফ,
মহাসচিবঃ আশিক্কীনে আউলিয়া ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশ।
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানঃ হযরত লাডুমশাহ (রঃ) আধ্যাত্মিক গবেষনা কেন্দ্র।
সন্মানীত উপদেষ্টাঃ জাতীয় দৈনিক “ঐশি বাংলা” পত্রিকা।
প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষঃ সানফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজ।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মহররম হোসেন মাহ্দী