মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি
- আশরাফুল আলম তাজ
রাষ্ট্র পরিচালনা কেবল ক্ষমতার বিষয় নয়, এটি নৈতিক আস্থার অঙ্গীকার। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিই হোক একটি গণতান্ত্রিক সরকারের মূল শক্তি।
সাম্প্রতিক সময়ে জনপরিসরে আলোচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর আমার এই 'খোলা চিঠি'। নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন তোলা আমাদের অধিকার, আর সত্য উদ্ঘাটন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিভ্রান্তি দূর করে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এই চিঠির মূল উদ্দেশ্য।
✉️ খোলা চিঠি
বরাবর
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব কেবল ক্ষমতার প্রয়োগ নয়; এটি নৈতিক আস্থার এক সুদীর্ঘ অঙ্গীকার। জনগণের বিশ্বাসই সরকারের প্রকৃত শক্তি—আর সেই বিশ্বাসের ভিত নির্মিত হয় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায়নিষ্ঠতার উপর।
সম্প্রতি জনপরিসরে একটি গুরুতর অভিযোগ আলোচিত হচ্ছে—প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ড. Muhammad Yunus–এর সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০০ কোটি টাকার কর মওকুফের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। বিষয়টি সত্য হোক বা অসত্য—উভয় অবস্থাতেই এটি রাষ্ট্রীয় নৈতিকতার পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
ড. ইউনুস আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত; Grameen Bank–এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে এবং Nobel Peace Prize প্রাপ্তির মাধ্যমে তিনি দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন। ফলে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো আর্থিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত জনমনে স্বাভাবিকভাবেই অধিকতর সংবেদনশীলতা সৃষ্টি করে।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় “স্বার্থের সংঘাত” পরিহার করা একটি মৌলিক নীতি। কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তবে তার আইনগত ভিত্তি, প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা ও নৈতিক বৈধতা জনসমক্ষে স্পষ্ট হওয়া অপরিহার্য। আবার, অভিযোগ যদি ভিত্তিহীন হয়—তবে সেটিও প্রমাণসহ পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন, যাতে গুজব ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটে।
অতএব, বিনীতভাবে অনুরোধ করছি—
১. সংশ্লিষ্ট কর মওকুফের সিদ্ধান্ত, নথি ও আইনগত ভিত্তি প্রকাশ করা হোক;
২. প্রয়োজনে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালিত হোক;
৩. তদন্তের ফলাফল জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
স্বচ্ছতা কোনো সরকারের দুর্বলতা নয়; বরং সেটিই তার নৈতিক সাহসের পরিচায়ক। সত্য উদ্ঘাটনের উদ্যোগ রাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী করে এবং জনগণের আস্থা দৃঢ় করে। ইতিহাস সেই নেতৃত্বকেই সম্মানিত করে, যে নেতৃত্ব প্রশ্নকে ভয় পায় না—বরং সত্যের আলোয় তাকে পরিশুদ্ধ করে।
ন্যায় ও স্বচ্ছতার প্রত্যাশায়,
বিনীত
আশরাফুল আলম তাজ
বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক
ঠিকানা: মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
তারিখ: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মহররম হোসেন মাহ্দী