ধর্ম, রাজনীতি ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র তিনের জটিল সমীকরণ
____________ আজমেরী সুলতানা 🖊️
ধর্ম, রাজনীতি ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র—এই তিনের সম্পর্ক ইতিহাসে বহুবার জটিল হয়েছে। যখন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য রাজনৈতিক মতভেদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তখন সাধারণ মানুষের মনে কষ্ট জন্মায়। কিন্তু এমন সময়েই প্রয়োজন প্রজ্ঞা, সংযম ও গভীর আত্মসমালোচনা।
আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত-এর প্রার্থী হিসেবে পীর মুফতী গিয়াস উদ্দিন তাহেরী-এর নির্বাচন অংশগ্রহণ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসির নগর খান্দুরা দরবার শরীফ -এর বর্তমান পীর সৈয়দ জুবায়ের কামাল সাহেব-এর সাথে মতানৈক্য—এটি কেবল ব্যক্তিগত বা দলীয় বিষয় নয়; বরং এটি দেখায় কীভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক অবস্থান একে অপরকে প্রভাবিত করে।
আধ্যাত্মিক দরবার বনাম রাজনৈতিক মতভেদ
ঐতিহাসিকভাবে সুফি দরবারসমূহ ছিল সমাজসংহতি, শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক চর্চার কেন্দ্র। এগুলো কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়; বরং উম্মাহর সম্মিলিত ঐতিহ্য। গবেষণায় দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার সুফি খানকাহগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী সামাজিক স্থিতি ও নৈতিক দিকনির্দেশনার ভূমিকা পালন করেছে—দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে থেকে।
কোনো সাময়িক রাজনৈতিক মতানৈক্যের কারণে একটি ঐতিহাসিক ওরশ বর্জনের আহ্বান—এটি আবেগের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়: এতে আধ্যাত্মিক ঐক্য কতটা রক্ষা পায়?
📌 সিফফিন ও কারবালার প্রসঙ্গ❗
সিফফিন ও কারবালা ইসলামের ইতিহাসে গভীর বেদনাবিধুর অধ্যায়। তবে গবেষকরা একমত—সেসব ছিল রাজনৈতিক ক্ষমতার লোভে, রাসুল (দ.)-এর উত্তরাধিকারী আওলাদে রাসুল (দ.)-এর উপর জুলুম, যার ধর্মীয় আবেগীয় প্রতিফলন আজও মুসলিম সমাজকে প্রভাবিত করে।
বর্তমান কোনো স্থানীয় মতভেদকে সরাসরি ঐ ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির সাথে ১০০% মিল বলে দেখা আবেগের দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝা যায়, কিন্তু বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি, কিন্তু সমান্তরাল টানার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন—যেন আমরা বিভাজন নয়, ঐক্যের শিক্ষা গ্রহণ করি।
👉 গবেষণা যা বলে❗
ধর্মীয় নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে সমসাময়িক সমাজবিজ্ঞানী গবেষণায় কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—
যখন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দলীয় রাজনীতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত হয়, তখন অনুসারীদের মধ্যে বিভক্তি বাড়ে।
আধ্যাত্মিক কেন্দ্রগুলো নিরপেক্ষ থাকলে সামাজিক ঐক্য তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হয়।
মতানৈক্যকে ‘ঈমান বনাম গুমরাহী’ আকারে উপস্থাপন করলে দীর্ঘমেয়াদে সম্প্রদায়িক দূরত্ব তৈরি হয়।
📌 আমাদের করণীয়
১. দরবার, খানকাহ ও ওরশকে আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য হিসেবে সম্মান করা।
২. দলীয় পরিচয়কে ঈমানের মানদণ্ডে পরিণত না করা।
৩. মতভেদকে ব্যক্তি-আক্রমণে রূপান্তর না করা।
৪. আলেম ও পীর-মাশায়েখদের মধ্যে সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা।
৫. সাধারণ অনুসারী হিসেবে উত্তেজনা নয়, সংযম চর্চা করা।
মনে রাখবেন—আউলিয়ায়ে কেরামের শিক্ষার মূল ছিল তাজকিয়া (আত্মশুদ্ধি), ইখলাস (নিষ্কলুষতা) ও উখুয়াহ (ভ্রাতৃত্ব)। তাঁদের মাজার ও দরবার বিভক্তির নয়, মিলনের প্রতীক।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আবেগের বশবর্তী না হয়ে হিকমাহর সাথে চলার তাওফিক দান করুন।
ঈমান ও আমলকে নিজের অনুগ্রহে হেফাজত করুন। আমীন।
____________ আজমেরী সুলতানা 🖊️
16/02/2026,,
#ঐক্যের_ডাক
#আধ্যাত্মিকতা_রাজনীতির_ঊর্ধ্বে
#মতভেদ_নয়_ভ্রাতৃত্ব
#ওরশ_হোক_মিলনমেলা
#হিকমাহ_ও_সংযম
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মহররম হোসেন মাহ্দী