পহেলা মাঘ—বিশ্বমানবতার আশার আলো: গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর আগমনের ২০০ বছর
ঐতিহ্যবাহী চরন দ্বীপ দরবার শরীফঃ বিশ্বস্রষ্টা পরম করুণাময় আল্লাহ্ তা’আলার চিরন্তন বিধান অনুযায়ী মানবজাতি কখনো আশাহীন হয়ে পড়ে না। যখন সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, আত্মিক শূন্যতা ও মানবিক নৈরাশ্য গভীরতর হয়, তখনই তিনি তাঁর বিশেষ নূর ও রহমতের বাহক হিসেবে মনোনীত বান্দাদের পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় পহেলা মাঘ এক পুণ্যময় ও ঐতিহাসিক দিন—যেদিন বিশ্বমানবতার কল্যাণে আশার আলো হয়ে ধরাধামে আগমন করেন বাংলাদেশে প্রবর্তিত একমাত্র ত্বরিকা, বিশ্বসমাদৃত ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়া-এর প্রবর্তক, যুবদাতুল আরেফিন, সুলতানুল মুকাররবিন, কুতুবুস্ সামাওয়াতে ওয়াল আরদ্—হযরত গাউসুল আযম শাহ্ সুফি মৌলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)।
হযরত গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর দুনিয়ায় আগমন ছিল পূর্বনির্ধারিত এক মহান রহমত। তাঁর জন্মের বহু পূর্ব থেকেই আসমানী ইশারা, নূরানী দর্শন ও আধ্যাত্মিক ভবিষ্যদ্বাণীর মাধ্যমে এই মহামানবের আবির্ভাবের সংবাদ মানবজাতিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। হযরত আবদুল্লাহ্ (র.)-এর নূরানী দর্শন, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন অলি হযরত মহিউদ্দিন ইবনে আরবি (র.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী এবং তাঁর পিতা-মাতার দেখা নূর ও মুক্তার স্বপ্ন—সবই এই সত্যের সুস্পষ্ট সাক্ষ্য বহন করে যে, তিনি হবেন এক অনন্য আধ্যাত্মিক সূর্য, যাঁর আলো এশিয়ার পূর্বপ্রান্ত থেকে উদ্ভাসিত হয়ে সমগ্র বিশ্বে বিস্তার লাভ করবে।
চাটগামভূমি—চীন পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বহু জাতি ও সংস্কৃতির মিলনস্থল—এই মহামানবের জন্মভূমি হিসেবে নির্বাচিত হয়। তাঁর নাম ‘আহমদ উল্লাহ্’—আল্লাহ্র জাতি নাম ও নবী করিম (দ.)-এর বেলায়েতী নামের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। আকৃতি-প্রকৃতি, চারিত্রিক সৌন্দর্য, ভাষার বৈশিষ্ট্য ও আধ্যাত্মিক গভীরতায় তিনি ছিলেন নবী করিম (দ.)-এর পূর্ণ সাদৃশ্যের প্রতীক। সাধারণ মানুষের বোধের অতীত তাঁর ভাবভঙ্গি ও রহস্যময় বাণী মানবহৃদয়ে প্রেম, নূর ও আত্মশুদ্ধির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
তাঁর প্রবর্তিত ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়া প্রেম, সহনশীলতা, আত্মসমালোচনা ও মানবসেবার শিক্ষা দিয়ে সমাজে আধ্যাত্মিক বিপ্লব সাধন করে। এই ত্বরিকার মূল আহ্বান হলো—অহংকার বর্জন, আত্মশুদ্ধি অর্জন, সৃষ্টির প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং খোদা ও রসুল (দ.)-এর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য। তাঁর ফয়েজে অসংখ্য মানুষ আত্মিক মুক্তির পথ খুঁজে পায় এবং হতাশ হৃদয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়।
আজ পহেলা মাঘে হযরত গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর দুনিয়ায় আগমনের ২০০ বছর পূর্তিতে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁর স্মরণ করি। তাঁর নূরানী আদর্শ, প্রেমময় দর্শন ও মানবকল্যাণের শিক্ষা যুগে যুগে বিশ্বমানবতার জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে—এটাই এই মহেন্দ্রক্ষণে আমাদের বিনীত প্রত্যাশা ও দোয়া।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মহররম হোসেন মাহ্দী