মহান ১০ই মাঘ সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী কঃ এর ১২০তম উরশ মোবারকে আমাদের চ্যানেল এর পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসা
আধ্যাত্মিক সাধনা, ঐতিহ্য ও মানবিক চেতনার এক মহামিলন
আমাদের চ্যানেলঃ বাংলার সুফিবাদী ঐতিহ্যে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ এক অবিচ্ছেদ্য নাম। যুগ যুগ ধরে এই দরবার শরীফ কেবল একটি ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহভিত্তিক জীবনচর্চার এক অনন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ভক্তিময় পরিবেশে পালিত হতে যাচ্ছে মহান গাউছুল আজম হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ আল মাইজভাণ্ডারী (কঃ)-এর ১২০তম উরশ মোবারক। এই পবিত্র উপলক্ষে আমাদের চ্যানেল পরিবারের পক্ষ থেকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসা।
উরশ মোবারকের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
উরশ শব্দটি আরবি “আরুস” থেকে আগত, যার অর্থ মিলন। সুফি দর্শনে উরশ মানে হলো—আল্লাহর প্রিয় বান্দার সঙ্গে মহান রবের চিরস্থায়ী মিলনের দিবস। এটি কোনো শোকের দিন নয়; বরং আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও আত্মিক উপলব্ধির এক মহোৎসব। হযরত গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী (কঃ)-এর উরশ মোবারক তাই তাঁর জীবনব্যাপী সাধনা, ত্যাগ ও আল্লাহপ্রেমের স্মরণে উৎসর্গীকৃত একটি বিশেষ দিন।
হযরত গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী (কঃ): জীবন ও আদর্শ
হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ছিলেন উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত সুফি সাধক, যিনি মানবপ্রেম, আত্মসংযম, সহনশীলতা ও আধ্যাত্মিক শুদ্ধতার শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর দাওয়াতের মূল বার্তা ছিল—
আল্লাহর প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা
আত্মশুদ্ধি ও নফস দমন
মানুষের প্রতি দয়া ও সমমর্মিতা
বিভেদ নয়, বরং ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব
এই আদর্শের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ, যা আজও লাখো মানুষের আধ্যাত্মিক আশ্রয়স্থল।
সময় ও স্থান: ভক্তদের মিলনকেন্দ্র
এ বছরের উরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হবে—
তারিখ: ১০ই মাঘ
ইংরেজি তারিখ: ২৪শে জানুয়ারি, শনিবার
স্থান: মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম
এই দিনে দরবার শরীফ ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সমাবেশে, যেখানে ভক্ত আশেকানদের ঢল নামে দেশ-বিদেশ থেকে।
লাখো আশেকানের উপস্থিতি ও জিকির-মিলাদের আবহ
উরশ মোবারক উপলক্ষে লাখো কোটি ভক্ত আশেকান একত্রিত হন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে। তাঁদের সম্মিলিত কণ্ঠে ধ্বনিত হয় “আল্লাহু আল্লাহ” জিকিরের পবিত্র ধ্বনি। মিলাদ কিয়াম, কুরআন তিলাওয়াত, দরুদ ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে পুরো দরবার শরীফ মুখরিত হয়ে ওঠে। এই জিকির ও ইবাদত শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি আত্মিক প্রশান্তি ও হৃদয়ের পরিশুদ্ধতার এক শক্তিশালী মাধ্যম।
সামাজিক ও মানবিক দিক: সুফিবাদের বাস্তব প্রয়োগ
মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের উরশ মোবারকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর মানবিক ও সামাজিক ভূমিকা। এখানে—
ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু কোনো ভেদাভেদ নেই
জাতি, শ্রেণি ও সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই এক কাতারে দাঁড়ায়
লঙ্গরখানায় বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করা হয়
স্বেচ্ছাসেবীরা নিরলসভাবে ভক্তদের সেবায় নিয়োজিত থাকেন এটি প্রমাণ করে যে সুফিবাদ কেবল ধ্যান-জিকিরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের সেবার মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ দেখায়।
আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা
১২০ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে পালিত এই উরশ মোবারক মাইজভাণ্ডারী তরিকার শক্তিশালী ঐতিহ্য ও গ্রহণযোগ্যতার সাক্ষ্য বহন করে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভক্ত আশেকানরা এই দরবারে এসে আত্মিক শক্তি, দিকনির্দেশনা ও শান্তি লাভ করছেন।
উপসংহার
মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের ১২০তম উরশ মোবারক কোনো একক দিনের অনুষ্ঠান নয়; এটি বিশ্বাস, ভালোবাসা, আত্মিক জাগরণ ও মানবিক মূল্যবোধের এক মহাসম্মিলন। হযরত গাউছুল আজম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ)-এর শিক্ষা আজও সমাজকে আলোকিত করছে এবং মানুষকে আল্লাহমুখী জীবন গঠনে অনুপ্রাণিত করছে। এই পবিত্র উপলক্ষে আমাদের চ্যানেল পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও দোয়া—আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে তাঁর প্রিয় বান্দাদের আদর্শ অনুসরণ করার তৌফিক দান করেন। আমিন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মহররম হোসেন মাহ্দী